উদ্বোধন

নিরাপদ যাতায়াত ও কর্মজীবী নারীদের সুবিধায় বিআরটিসির নতুন উদ্যোগ।

বগুড়া প্রতিনিধি:
কর্মজীবী ও সাধারণ নারী যাত্রীদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে বগুড়ায় পৃথক‘মহিলা বাস’ সার্ভিস চালু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। গোলাপি রঙের বিশেষায়িত এ বাসে চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে নারীদের দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে কেন্দ্রীয়ভাবে মহিলা বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়। একই সঙ্গে বগুড়া থেকেও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন সংশ্লিষ্টরা। বগুড়া থেকে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে সদর সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা বলেন, মহানগর এলাকায় নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিআরটিসির এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, নারীদের কর্মস্থলে যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ করার পাশাপাশি এ উদ্যোগ নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করেছে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪ জেলায় এ ধরনের মহিলা বাস সার্ভিস চালুর আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বগুড়া বিআরটিসির ট্রেনিং গ্রাউন্ডের হলরুম থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশগ্রহণকারীরা মোকামতলা-বনানী রুটের মহিলা বাসে শহর প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় সদর সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশাসহ অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা বাসে ছিলেন।বগুড়া বিআরটিসির অপারেশনস ম্যানেজার মো. শাহিনুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে দুটি বাস শেরপুর-মাটিডালী এবং মোকামতলা-বনানী রুটে চলাচল করবে।বুধবার (১৯ আগস্ট) থেকে নির্ধারিত স্টপেজগুলোতে কর্মজীবী ও সাধারণ নারী যাত্রীরা এসব বাসে চলাচল করতে পারবেন।তিনি জানান, বিআরটিসির নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা অনুযায়ী ডিজেলচালিত নন-এসি বাস দুটির ভাড়া আদায় করা হবে।নিরাপদ গণপরিবহনে নতুন সম্ভাবনা নারীদের জন্য পৃথক বাস সার্ভিস চালুর ফলে গণপরিবহনে নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ার পাশাপাশি কর্মজীবী নারীদের নিয়মিত যাতায়াতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে কর্মস্থলে যাতায়াতের পথে হয়রানি, অতিরিক্ত ভিড় ও অনিরাপদ পরিবেশের ঝুঁকি কমাতে এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।তবে সার্ভিসটি সফল করতে নির্ধারিত স্টপেজে বাস থামানো, সময়সূচি যথাযথভাবে অনুসরণ, যাত্রীদের সঙ্গে শালীন ও দায়িত্বশীল আচরণ, চালক-কন্ডাক্টরের দক্ষতা এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি যেকোনো অনিয়ম, হয়রানি বা নিরাপত্তাজনিত অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ ও প্রতিকারের জন্য কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। নারীবান্ধব ও নিরাপদ গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠলে কর্মজীবী নারীদের চলাচল আরও সহজ হবে এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতেও এটি সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। বগুড়ায় চালু হওয়া এই উদ্যোগ তাই শুধু একটি নতুন বাস সার্ভিস নয়, বরং নারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button