উদ্বোধন

‎কাশাদহে সেচ কার্যক্রমের উদ্বোধন: কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতার লক্ষ্যে নতুন আশার সঞ্চার।

আল মামুন মানিকগঞ্জঃ
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার দক্ষিণ শিবালয় এলাকায় যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত কাশাদহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের উদ্যোগে ইরি-বোরো মৌসুমের সেচ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির বলেন, দেশের কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীতে কাশাদহ থেকেই খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কৃষকদের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার খাল খননসহ বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।তিনি বলেন, খাল খননের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটলে কৃষি উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এতে করে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি বিদেশে খাদ্য রপ্তানির সক্ষমতাও অর্জন করবে। অনুষ্ঠানে কাশাদহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি সফিউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিষা রানী কর্মকার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল নাঈম। বক্তারা সেচ প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ এবং এটি এলাকার কৃষি উৎপাদনে নতুন গতি সঞ্চার করবে। অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও জানান, আধুনিক সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমবে এবং ফসলের ফলন বৃদ্ধি পাবে। এতে করে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নত হবে। উল্লেখ্য, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালের ১লা ডিসেম্বর ঐতিহাসিক কাশাদহ খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের এই সেচ কার্যক্রম উদ্বোধন নতুন করে কৃষি উন্নয়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছে।স্থানীয় কৃষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সেচ সমস্যার কারণে তারা কাঙ্ক্ষিত ফলন থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। নতুন এই সেচ প্রকল্প চালু হওয়ায় তারা আশাবাদী যে, এবার বোরো মৌসুমে ভালো ফলন পাবেন এবং তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হবে।সবমিলিয়ে, কাশাদহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির এই উদ্যোগ শিবালয় উপজেলার কৃষি খাতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করেছে বলে মনে করছেন।

Back to top button