

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতা ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মী আবুল হাসেম পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা,দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে রেখে তিনি এবার দলীয় মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। সম্প্রতি একান্ত আলাপকালে আবুল হাসেম বলেন, আল্লাহর রহমত এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতা পেলে আমি নির্বাচনে অংশ নিতে চাই।জনগণের ভালোবাসা নিয়ে পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদে কাজ করার ইচ্ছা আমার অনেক দিনের। সুযোগ পেলে এলাকার মানুষের পাশে থেকে উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই।ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতিতে আবুল হাসেমের ভাষ্য অনুযায়ী, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি,আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক পরিচিতি গড়ে তোলেন।রাজনৈতিক জীবনে তিনি লোহাগাড়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি, লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য, পদুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবং পদুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানান।তার দাবি, রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে বিভিন্ন সময়ে তাকে মামলা ও কারাবরণের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো পারিবারিক মামলা নেই; তবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে চারটি রাজনৈতিক মামলা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।আবুল হাসেম আরও বলেন, একবার চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার জেলা পরিষদ মার্কেট এলাকায় একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি শেষে তাকে আরও ১৩ জনের সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই মামলায় চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এবং বাঁশখালীর নেতা মিশকাতুল ইসলাম পাপ্পাসহ আরও কয়েকজন নেতাকর্মী ছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।এসব বক্তব্যের স্বতন্ত্র যাচাই এ প্রতিবেদকের পক্ষে সম্ভব হয়নি। লক্ষ্য মানুষের সেবা ও ইউনিয়নের উন্নয়ন চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে আবুল হাসেম বলেন, “মানুষের সেবা করাই আমার মূল লক্ষ্য। পদুয়া ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা চিহ্নিত করে সাধ্যমতো সমাধানে কাজ করতে চাই।ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখার ইচ্ছা রয়েছে। তিনি মনে করেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় একজন জনপ্রতিনিধির মূল দায়িত্ব হলো সাধারণ মানুষের কাছে থাকা এবং তাদের প্রয়োজন ও সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা। দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি জনগণের আস্থা অর্জন করাকেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রসঙ্গে আবুল হাসেম বলেন, বিএনপি যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই তিনি মেনে নেবেন। দল তাকে মনোনয়ন দিলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়ে দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, “দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে আমার কোনো অবস্থান নেই। বিএনপি যাকে যোগ্য মনে করবে, তাকেই মনোনয়ন দেবে। দল আমাকে সুযোগ দিলে সর্বশক্তি দিয়ে নির্বাচন করব; আর অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করব।তৃণমূলের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হবে, সেটিই এখন আলোচনায়
পদুয়া ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চললেও দলীয় মনোনয়ন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত বিএনপির মনোনয়ন কার ভাগ্যে জুটবে, তা নির্ভর করবে দলের সাংগঠনিক মূল্যায়ন ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর।দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে আবুল হাসেম এবার দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তবে তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে কতটা ভূমিকা রাখবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।নির্বাচন সামনে রেখে পদুয়া ইউনিয়নের রাজনৈতিক পরিবেশও ধীরে ধীরে সরগরম হয়ে উঠছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন ও নির্বাচনী সমীকরণ কোন দিকে যায়, তা সময়ই বলে দেবে। সবশেষে পদুয়া ইউনিয়নবাসী, বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে দোয়া, সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেছেন আবুল হাসেম।










