

এস এম নাসির উদ্দিন সাতক্ষীরাঃ
সাতক্ষীরা জেলায় কথিত ‘লেডি ডাকাত’ মাসুরা বেগমকে কেন্দ্র করে জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র দীর্ঘদিন ধরে চুরি, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের মতো নানা অপরাধে জড়িত—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে। ফলে দ্রুত তাকে ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা মাসুরা বেগম বর্তমানে সাতক্ষীরা শহরে ভাড়া বাসায় অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই তিনি তার সহযোগীদের নিয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার সঙ্গে বাহার আলী, রহমান ও মাসুদসহ একটি সক্রিয় চক্র জড়িত বলে স্থানীয়দের দাবি।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, কালিগঞ্জ উপজেলার একটি ডাকাতির ঘটনায় প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওই ঘটনায় চুরি হওয়া স্বর্ণ বিক্রির চেষ্টার বিষয়টি জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন বলেও জানা গেছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৯৫/৩৯৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেলেও পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বিতর্কিত ভিডিও নিয়েও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এর মাধ্যমে প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে নিজেদের অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, একাধিক মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে চক্রের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন অপরাধের পরিকল্পনা করা হয়। এসব নম্বরের কললিস্ট বিশ্লেষণ করলে পুরো চক্রটি সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।স্থানীয়দের অভিযোগ, মাসুরা বেগম পূর্বেও একাধিক অপরাধে জড়িত ছিলেন এবং কয়েকবার আটক হলেও আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাতক্ষীরাবাসী দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন। সচেতন মহলের দাবি—বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হোক।এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র্যাবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এখন সাতক্ষীরার মানুষ অপেক্ষা করছে—কবে এই আতঙ্কের অবসান ঘটবে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে জনপদ।










