

একরাম হোসেন (রায়পুর) প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার হয়ে নিহত যুবদল নেতা বেলাল হোসেন মিশোরী হত্যা মামলার প্রধান আসামি অটোচালক আরমান (৩৫) অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর সোমবার (৯ মার্চ) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে রায়পুর পৌর শহরের মেইন রোডে সাব-রেজিস্ট্রার মসজিদের সামনে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বায়োতির শাহ আলমের ছেলে অটোচালক আরমান রিকশা দাঁড় করানোকে কেন্দ্র করে কবির মোহরী (৫৫) নামে এক বৃদ্ধের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি মীমাংসা করে পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে আসেন স্থানীয় যুবদল নেতা বেলাল হোসেন মিশোরী। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আরমান বেলাল হোসেনের বুকে ও শরীরে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে তোলেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। নিহত বেলাল হোসেন মিশোরী (৫০) রায়পুর উপজেলার ৬ নম্বর কেরোয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি এবং স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের ছোট ভাই হেলাল হোসেন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন, দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে তারা নিহতের লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে রায়পুর শহীদ ওসমান চত্বরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা অভিযুক্ত আরমানকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এতে কিছু সময়ের জন্য শহরের প্রধান সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে রায়পুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি আরমানকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। রায়পুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মান্নান জানান, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।










