অভিযোগ

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু, সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ।

স্টাফ রিপোর্টার লক্ষ্মীপুর:
লক্ষ্মীপুর সদর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আনা এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অবহেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন রোগীর স্বজনরা। একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহে আসা সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও তাদের ব্যবহৃত সরঞ্জাম ভাঙচুরের অভিযোগে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
রোগীর স্বজনদের দাবি, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসার পরও রোগীকে দ্রুত ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। দায়িত্বরত চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত হাসপাতালেই তার মৃত্যু হয়। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা হাসপাতালে পৌঁছালে একটি সংঘবদ্ধ দল তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলার সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরা, মাইক্রোফোনসহ অন্যান্য সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়। এতে কয়েকজন সাংবাদিক শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও আহত হন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অন্যান্য রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা চরম আকার ধারণ করেছে। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতে বা বাইরে বসিয়ে রাখা হয়। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়া, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিলম্ব এবং রোগীদের সঙ্গে দায়িত্বশীলদের অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও রয়েছে।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, একটি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা শুধু দুঃখজনকই নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। এ বিষয়ে অভিযোগ করে তারা বলেন দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পাচ্ছিনা চিকিৎসা সেবা, তারা অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, দোষীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং হাসপাতালের সার্বিক সেবার মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।এদিকে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে স্থানীয়রা আশাবাদ ব্যক্ত।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button