অভিযোগ

আশুলিয়ায় ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ—স্বল্প বেতনে কোটি টাকার সম্পদের প্রশ্ন।

স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়া এলাকার ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, মাসিক স্বল্প বেতনের সরকারি চাকরি করলেও তিনি বিভিন্ন অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তের দাবি উঠেছে।স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে সচিব আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে। ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিক সেবা, ভাতা কার্যক্রম ও সনদপত্র প্রদান প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।
সেবার আড়ালে অনিয়মের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত বা অনুমোদনের আশ্বাস দিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এছাড়া জন্ম ও মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদ এবং ব্যবসায়িক ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রেও সরকারি নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নির্ধারিত অর্থের বাইরে অতিরিক্ত টাকা না দিলে অনেক সময় ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়। স্থানীয়রা আরও জানান, পূর্বে তেঁতুলজোড়া ইউনিয়নে দায়িত্ব পালনকালে প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় তিনি একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় গড়ে তুলেছিলেন। পরবর্তীতে ধামসোনা ইউনিয়নে যোগদানের পরও সেই প্রভাবের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন-অভিযোগ অনুযায়ী, আবুল কালাম আজাদের নামে ও বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। আশুলিয়ার কাটগড়া বাংলালিংক সড়ক এলাকায় তার একটি বহুতল ভবন ও মার্কেট রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। এছাড়া সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় তার নামে বা বেনামে জমি, প্লট এবং বাড়ি থাকার কথাও শোনা যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, একজন ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের মাসিক বেতন প্রায় ২৪ হাজার ৫০০ টাকা। এই আয়ের সঙ্গে বিপুল সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, তার বাড়িতে নিরাপত্তাকর্মীও নিয়োজিত রয়েছে, যার বেতনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ। তবে এই সম্পদগুলোর বৈধ উৎস সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। আইনি দৃষ্টিকোণ-আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পদ তার বৈধ আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রমাণিত হয়, তাহলে তা তদন্তের আওতায় আনা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিচালনা করতে পারে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী, জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আইনি সুযোগও রয়েছে।এছাড়া স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকুরি বিধিমালা-২০১১ অনুযায়ী কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে। তদন্তের দাবি-এলাকার সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অভিযোগগুলো সঠিকভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি ইউনিয়ন পরিষদ জনগণের সবচেয়ে নিকটবর্তী প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান। তাই এই প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপসংহার-সরকারি সেবার সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশা জড়িত থাকে। যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, তবে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আবুল কালাম আজাদকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিষয়টিও এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে। এলাকাবাসীর আশা, যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button