অভিযোগ

জমি ক্রয়কে কেন্দ্র করে প্রবাসীর পরিবারের ওপর হামলা, লুটপাটের অভিযোগ।

নিজস্ব প্রতিবেদক হাজিগঞ্জ (চাঁদপুর):
চাঁদপুরের হাজিগঞ্জ উপজেলার দ্বাদশ গ্রাম ইউনিয়নের সেচুয়ালেজি গ্রামে জমি ক্রয়কে কেন্দ্র করে এক প্রবাসীর পরিবারের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারটির দাবি, প্রতিবেশী কাউসার গংদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের প্রবাসী রিপন মিয়া তার বসতঘরের পাশের একটি ছোট জমি ক্রয় করলে প্রতিবেশী পক্ষের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এ বিরোধ শুরু হয়ে ধীরে ধীরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।প্রবাসী রিপন মিয়ার স্ত্রী আমেনা বেগম জানান, জমি কেনার পর থেকেই তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। একপর্যায়ে কাউসার গংদের সদস্যরা তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এসময় ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় সালিশ বৈঠকে অভিযুক্তরা স্বর্ণালংকার ফেরত দিলেও নগদ অর্থ ফেরত দেয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।ঘটনার পর প্রবাস থেকে দেশে ফিরে মার্চ মাসে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে জমির সীমানা নির্ধারণ করেন রিপন মিয়া।কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ৩ মার্চ সকালে সীমানা ঘিরে বেড়া দিতে গেলে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় রিপন মিয়া ও তার স্ত্রীকে মারধর করা হয় এবং ঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়। আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেও প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে হুমকি অব্যাহত ছিল বলে অভিযোগ করেন আমেনা বেগম।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভুক্তভোগীরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে হাজিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশনা দেয়। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, তারা থানায় মামলা করতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। বরং প্রতিপক্ষের দায়ের করা মামলায় রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী তিনি পুনরায় বিদেশে ফিরে যান। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, রিপন মিয়ার বিদেশ যাওয়া ঠেকাতে পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। এদিকে, আমেনা বেগম পরবর্তীতে চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য হাজিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
হাজিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল জব্বার বলেন, কে পক্ষ আর কে বিপক্ষ তা তদন্তের আগে বলা সম্ভব নয়। কেউ আইনি সহায়তার জন্য থানায় এলে তার অভিযোগ গ্রহণ করা আমাদের দায়িত্ব। দোষী-নির্দোষী বিষয়টি তদন্ত ও আদালতের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। এ ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর নাজমুল জানান, ওই মামলার চার্জশিট ইতোমধ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে, আমেনা বেগমের দায়ের করা মামলাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মনে করছেন, একই বাড়িতে বসবাসের কারণে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ দ্রুত মীমাংসা করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।ভুক্তভোগী পরিবারটি ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button