

রাসেল সবুজ ভোলাঃ
বরিশালের ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বসতঘরের ওপর রাতের আঁধারে বারবার ইট-পাথর ও ভারী বস্তু নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই ঘটনার কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ওই বাড়ির বাসিন্দারা। ভুক্তভোগী হলেন দক্ষিণ জয়নগর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চৌ সরদার বাড়ির মোঃ জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী, ৬০ বছর বয়সী বিবি ফুলজান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার পার্শ্ববর্তী কয়েকজন ব্যক্তি গভীর রাতে পরিকল্পিতভাবে তার বসতঘরের ওপর একাধিকবার ইট-পাথর নিক্ষেপ করে আসছে। এতে করে ঘরের টিন ও কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জীবনও মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বিবি ফুলজান আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি একাধিকবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মুরুব্বিদের অবহিত করেন। পরে এলাকাবাসীর উদ্যোগে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অভিযুক্তদের ডেকে এনে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পুনরায় প্রায় প্রতিদিনই তার ঘরের ওপর ইট-পাথর ও বিভিন্ন ভারী বস্তু নিক্ষেপ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, এলাকার কেউই তাদের থামাতে পারছে না। আমাদের কথা কেউ শুনছে না। রাত হলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। কখন কোন সময় কী ঘটে যায় বলা যায় না। ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, তার বসতঘরের ভেতরে ছোট দুটি নাতি-নাতনি বসবাস করে। শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এইভাবে ইট-পাথর ছোড়া চলতে থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের অঘটন ঘটতে পারে। এতে করে প্রাণহানির মতো ভয়াবহ পরিস্থিতিও সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।স্থানীয় এলাকাবাসীর অনেকেই জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এভাবে প্রকাশ্যে বসতঘরের ওপর ইট-পাথর নিক্ষেপ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও হুমকিস্বরূপ বলে তারা মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে বিবি ফুলজান স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত তদন্ত, দোষীদের শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান। পাশাপাশি তিনি নিজের পরিবারসহ নিরাপদে বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির অবসান ঘটবে এবং ভুক্তভোগী পরিবারটি নিরাপদে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে।










