সাতক্ষীরা

ভাইরাল ভিডিও ইস্যুতে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, বহিষ্কার ও পদ বাতিলের দাবি।

শেখ ফারুক হোসেন বিশেষ প্রতিনিধিঃ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শ্যামনগরে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।সমাবেশ থেকে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, দল থেকে বহিষ্কার, সংসদ সদস্য পদ বাতিল এবং তাকে শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানানো হয়। বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) সকাল ১১টায় শ্যামনগর উপজেলা সদরে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এ প্রতিবাদ সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনমনে সৃষ্টি হওয়া উদ্বেগ, ক্ষোভ ও আলোচনার বিষয়টি তুলে ধরেন এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান। প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোলায়মান কবির, জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট আশেক এলাহী মুন্না, উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী নুর জাহান পারভীন ঝর্ণা, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম দুলুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সমাবেশের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন উপজেলা বিএনপির নেতা গাজী শাহ আলম।বক্তারা অভিযোগ করেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতার কথা বলে জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, রাজধানীর একটি আবাসিক হোটেলে এক তরুণীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থানে থাকার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি একজন সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, জনবিশ্বাস এবং জনপ্রতিনিধির মর্যাদা নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। তারা দাবি করেন, বিষয়টি শুধু একটি ব্যক্তিকে ঘিরেই নয়; বরং জনপ্রতিনিধিদের নৈতিক জবাবদিহিতা এবং জনআস্থার সঙ্গেও সম্পৃক্ত। সমাবেশ থেকে বক্তারা গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্ত সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে দল থেকে বহিষ্কারের আহ্বান জানান।পাশাপাশি সংসদ সদস্য হিসেবে তার পদ বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণে জাতীয় সংসদের স্পিকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সমাবেশ চলাকালে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং পরে শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সামনে গাজী নজরুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। এ সময় পুরো এলাকায় অতিরিক্ত উৎসুক জনতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় এবং ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকে মনে করেন, কোনো জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে সেটির নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছে আইনি ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির সুরাহা হওয়াই গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ বলে তারা মত প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া এ ঘটনায় গাজী নজরুল ইসলাম বা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button