

বিশেষ প্রতিনিধি:
বগুড়া শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বিশেষ করে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় ফুটপাত ও সড়কের অংশ দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অস্থায়ী দোকান। এসব দোকানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে যানজট, জনদুর্ভোগ এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসিক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, ফুটপাতে অস্থায়ীভাবে দোকান বসিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও প্রতি মাসে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করে। অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যবসা ভালো হোক বা মন্দ—মাস শেষ হলেই চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দোকান উচ্ছেদ, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা বিভিন্ন ধরনের হয়রানির আশঙ্কায় অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পান না।ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, তারা প্রতিদিন জীবিকার তাগিদে ফুটপাতে বসে অল্প আয়ের মাধ্যমে পরিবার চালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই সামান্য আয়ের একটি অংশও যদি জোরপূর্বক দিতে হয়, তবে পরিবার নিয়ে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়ে। তাদের প্রশ্ন—ন্যায়বিচার কোথায়? কার কাছে গেলে বিচার মিলবে? অভিযোগ করলেও যদি নিরাপত্তা না থাকে, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?” অন্যদিকে, নির্ধারিত বাস, সিএনজি ও অটোরিকশা স্ট্যান্ডের অভাবে মহাসড়কের ওপরই যাত্রী ওঠানামা চলছে। এতে একদিকে যেমন তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। যানজটের কারণে ক্রেতারা সহজে দোকানে পৌঁছাতে না পারায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিক্রিও কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ফুটপাত ও মহাসড়কের অব্যবস্থাপনা শুধু যান চলাচলের সমস্যা সৃষ্টি করছে না; এর আড়ালে যদি সত্যিই চাঁদাবাজির মতো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে, তবে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা জরুরি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনস্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ সময়ের দাবি।ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সড়ক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। একই সঙ্গে ফুটপাত ও মহাসড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে নির্ধারিত স্ট্যান্ডের ব্যবস্থা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নিরাপদে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। একটি সভ্য রাষ্ট্রে অসহায় মানুষের জীবিকা কখনোই ভয়, অনিশ্চয়তা বা জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের ওপর নির্ভর করতে পারে না। যদি কোথাও চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থেকে থাকে, তবে তা দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনতে হবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং জনভোগান্তি দূর করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।










