বিশেষ সংবাদ

রামিসা হত্যাকাণ্ডে দেশজুড়ে ক্ষোভ, পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে বাসায় তারেক রহমান।

বিশেষ প্রতিনিধিঃ
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সারাদেশে শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রামিসার মা-বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তাদের বাসায় যান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকার একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে শিশু রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে একই বাসার বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় তার খণ্ডিত মাথা। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের ঝড় ওঠে। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। প্রথমে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল রানা শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র। আইন বিশ্লেষকরা বলছেন, শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংস ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়তে পারে। দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ভুক্তভোগী পরিবারকে হতাশ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আসামি গ্রেফতারই যথেষ্ট নয়—দ্রুত তদন্ত, নিরপেক্ষ বিচার এবং কার্যকর শাস্তিই পারে এমন অপরাধ কমাতে। সমাজবিজ্ঞানীদের ভাষ্য, প্রযুক্তির অপব্যবহার, মাদকাসক্তি, নৈতিক অবক্ষয় এবং পারিবারিক মূল্যবোধের সংকট সমাজে সহিংসতা বাড়িয়ে তুলছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কারণ একটি শিশুর নিরাপত্তাহীনতা পুরো সমাজব্যবস্থার ব্যর্থতাকেই সামনে নিয়ে আসে। এদিকে রামিসার গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।এলাকাবাসীর একটাই দাবি—দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে যেন আর কোনো শিশুকে এমন নির্মম পরিণতির শিকার হতে না হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button