অপরাধ

রামিসার বিদায়ে অশ্রু, বিচারের দাবিতে ক্ষোভ।

ডেক্স রিপোর্টঃ
রাজধানী ঢাকার পল্লবীতে ধর্ষণের পর নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার নিষ্পাপ শিশু রামিসা আক্তারের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার এশার নামাজ শেষে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্যম শিয়ালদী গ্রামের মোল্লাবাড়ির বায়তুল আমান জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে দাদা-দাদির কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। সাত বছরের এই শিশুর জানাজায় অংশ নেন তার স্বজন, এলাকাবাসী, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ কয়েকশ মুসল্লি। পুরো এলাকা জুড়ে ছিল শোকের ছায়া আর ক্ষোভের বিস্ফোরণ। নিহত রামিসা মধ্যম শিয়ালদী গ্রামের মরহুম হেলাল উদ্দিন মোল্লার নাতনি এবং হান্নান মোল্লার মেয়ে। পরিবারের একমাত্র আদরের সন্তানকে এমন নৃশংসতায় হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন স্বজনরা। জানাজার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন শিশুটির মা ও পরিবারের সদস্যরা। উপস্থিত অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।এদিকে এ বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে স্থানীয় জনগণ। বুধবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ জেলা শহরে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবাধিকার সংগঠনের উদ্যোগে এক বিশাল মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময় বিক্ষোভকারীরা “ধর্ষকের ফাঁসি চাই”, “শিশু হত্যার বিচার চাই”, “নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধ কর”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। স্থানীয়রা বলেন, দেশে একের পর এক শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা সমাজকে ভয়াবহ অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অপরাধীরা দ্রুত আইনের আওতায় এলেও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও শাস্তি কার্যকরে বিলম্বের কারণে অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ প্রবণতা কমছে না। তারা মনে করেন, শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, শুধু আইন করলেই হবে না, সামাজিক সচেতনতা, পারিবারিক শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—তিন পক্ষকেই সমানভাবে দায়িত্ব নিতে হবে। একটি শিশু যখন ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়, তখন শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো জাতির বিবেক ক্ষতবিক্ষত হয়।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। রামিসার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো দেশের জন্য এক গভীর বেদনার নাম হয়ে উঠেছে। ছোট্ট এই শিশুর নিষ্পাপ মুখ আজও মানুষের চোখে ভাসছে।তার জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হোক—এটাই এখন পুরো জাতির দাবি।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button