

ডেক্স রিপোর্টঃ
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার ৪নং নীলকমল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে গভীর রাতে একটি গোয়ালঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় গোয়ালঘরে থাকা ৯টি গরুর বিভিন্ন অংশ পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, একই এলাকার বাসিন্দা মোঃ হানিফ পরিকল্পিতভাবে রাতের আঁধারে আগুন দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন ২০২৬ (বুধবার) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে ৪ নং নীলকমল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ মামুন মোল্লা (৪০)-এর গোয়ালঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে গোয়ালঘরে থাকা গবাদিপশুগুলো আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং কয়েকটি গরুর শরীরের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও মামুন মোল্লার স্ত্রী জানান, গভীর রাতে বাইরে অস্বাভাবিক শব্দ শুনে তিনি ঘরের জানালা দিয়ে তাকিয়ে গোয়ালঘরে আগুন জ্বলতে দেখেন। দ্রুত দরজা খুলে বাইরে বের হলে তিনি একজন ব্যক্তিকে ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখেন, যাকে তিনি স্থানীয় হানিফ হিসেবে শনাক্ত করেছেন বলে দাবি করেন।তিনি বলেন, চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। আমরা সবাই মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করি। এলাকাবাসী অভিযুক্তকে ধরার চেষ্টা করলেও সে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তিনি আরও জানান, গোয়ালঘরে থাকা ৯টি গরুই বিভিন্ন মালিকের কাছ থেকে বর্গা বা পালনের জন্য আনা হয়েছিল। পরিবারটি মূলত গরু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে। আগুনের ঘটনায় গরুগুলোর শারীরিক ক্ষতি হওয়ায় মালিক ও পালনকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় নীলকমল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মনির হোসেন সিকদার এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এটিকে একটি গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার হাইমচর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানা গেছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সম্ভাব্য সাক্ষীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এদিকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মনির হোসেন সিকদার বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।ভুক্তভোগী পরিবারকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের ঘটনা শুধু ব্যক্তি বা পরিবারের ক্ষতির বিষয় নয়; বরং গ্রামীণ জনপদের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকিস্বরূপ।তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। প্রসঙ্গত, অভিযোগটি বর্তমানে তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন ও আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই ঘটনার চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হবে।










