হাইমচরে নিহত ওমর ফারুকের জানাজা সম্পন্ন-গ্রেপ্তার ৭জন,বাকিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন।


ডেক্স রিপোর্টঃ
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার ২নং আলগী দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের ছোট লক্ষীপুর গ্রামের মৃধা বাড়িতে এজমালি পুকুরের ঘাটলা নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ওমর ফারুক (২২) নামে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত ওমর ফারুক ৩নং দক্ষিণ আলগী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের উত্তর চরভাঙ্গা গ্রামের আব্দুল খালেকের একমাত্র সন্তান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এজমালি পুকুরে ঘাট নির্মাণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সৃষ্টি হলে নানার উপর হামলার প্রতিবাদে ওমর ফারুক এগিয়ে আসলে তার উপরে দেশীয় দাড়ালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। মামলার তদন্তে নেমে হাইমচর থানা পুলিশ এ পর্যন্ত সাতজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মামলায় জড়িত বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয় জনগণ বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে আসছে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।এদিকে নিহত ওমর ফারুকের রুহের মাগফেরাত কামনায় বাদ জোহর দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় বিভিন্ন এলাকার বিপুল সংখ্যক মুসল্লি, আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। এলাকাবাসীর দাবি, একটি সামান্য বিরোধকে কেন্দ্র করে একজন তরুণ প্রাণ হারানো অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, জড়িত সকল আসামির দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। সচেতন মহলের মতে, ব্যক্তি ও পারিবারিক বিরোধ কখনোই সহিংসতার মাধ্যমে সমাধান হতে পারে না।সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনের শাসন বজায় রাখতে সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রাখা জরুরি।একই সঙ্গে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করেন।



