স্বাস্থ্য

কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইপিআই কার্যক্রমে গতি আনতে হাইমচরে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মাঠ পরিদর্শন।

ডেক্স রিপোর্টঃ
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর, জনবান্ধব ও মানসম্মত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিক এবং সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মাহমুদুন নবী (মাসুম)। বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইপিআই কেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি স্বাস্থ্যসেবার সার্বিক কার্যক্রম, টিকাদান ব্যবস্থা, ওষুধ বিতরণ, রোগীদের উপস্থিতি, মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুসেবা, পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।পরিদর্শনের সময় তিনি সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে সেবার মান আরও উন্নত করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। একই সঙ্গে তিনি শিশুদের শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা, গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নিরাপদ মাতৃত্ব, পুষ্টি, পরিবার পরিকল্পনা এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ডাঃ মাহমুদুন নবী (মাসুম) বলেন, “প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিক গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিকতা, নিয়মিত উপস্থিতি এবং জনগণের সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, শিশুর জন্মের পর নির্ধারিত সময়ে সব ধরনের ইপিআই টিকা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টিকা একটি শিশুকে বিভিন্ন প্রাণঘাতী ও প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। তাই কোনো শিশুকে যেন টিকার আওতার বাইরে রাখা না হয়, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।স্থানীয়রা জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার এমন নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সুস্থ জাতি গঠনের পূর্বশর্ত হলো শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, শিশুদের পূর্ণাঙ্গ টিকাদান নিশ্চিত করা, অপুষ্টি প্রতিরোধ, নিরাপদ মাতৃত্ব এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব। সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক অভিভাবকের উচিত শিশুদের নির্ধারিত সময়ে সব টিকা সম্পন্ন করা, গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা এবং অসুস্থ হলে নিকটস্থ কমিউনিটি ক্লিনিক বা সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করা। জনগণ ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগই পারে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও উন্নত হাইমচর গড়ে তুলতে।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button