

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম হাইমচরঃ
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রোগীদের জন্য সরবরাহকৃত খাবারে ভয়াবহ অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। রোগীরা জানিয়েছেন— তালিকাভুক্ত খাবার না দিয়ে কম ওজনের নিম্নমানের খাদ্য পরিবেশন করা হচ্ছে প্রতিদিন। এর ফলে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় রোগীরা পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ৩০ নভেম্বর রবিবার সরেজমিনে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, সকালের নাস্তায় রোগীদের দেওয়ার কথা ছিল— একটি ডিম, একটি কলা এবং ৫০০ গ্রাম মূল্যের (৬০ টাকার) পাউরুটি। কিন্তু বাস্তবে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৫০ গ্রাম পরিমাণের পাউরুটি, যার বাজারমূল্য আনুমানিক মাত্র ১০ টাকা। রোগীরা অভিযোগ করেন, অন্যান্য খাবারেও একইভাবে পরিমাণ কম দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের খাবার তালিকা অনুযায়ী, ওইদিন দুপুরে প্রত্যেক রোগীকে ১৮৬ গ্রাম ওজনের রুই মাছ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রুইয়ের পরিবর্তে পরিবেশন করা হয় ব্রয়লার মুরগি। শুধু আইটেমেই নয়, ওজনে ছিল আরও বড় বৈষম্য— রোগীরা জানিয়েছেন, যেখানে ২৪১ গ্রাম মাংস দেওয়ার কথা, সেখানে প্রাপ্ত হয়েছে মাত্র ৭৯ গ্রাম। অর্থাৎ নির্ধারিত পরিমাণের এক-তৃতীয়াংশও নয়। এমন নিম্নমানের ও কম পরিমাণ খাদ্য পেয়ে হতাশ ও ক্ষুব্ধ রোগীরা বলেন— সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে খাবারে এমন পুকুরচুরি মেনে নেওয়া যায় না। ভর্তি থাকা রোগী আসিফ, আব্দুর রহমান ও হেদায়েতুল্লাহ জানান, প্রায় প্রতিদিনই তারা একই ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অভিযোগ করেও কোনো পরিবর্তন আসছে না। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কেএম আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,আমরা অভিযোগ আমলে নিয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তবে রোগীরা মনে করছেন, শুধু আশ্বাসে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না— দ্রুত তদারকি ও বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) হাসপাতালটিতে অভিযান চালিয়ে খাবার বিতরণসহ একাধিক অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছিল। কিন্তু তবুও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে খাদ্য সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী রোগীদের দাবি— তালিকা অনুযায়ী মানসম্মত খাবার প্রদান, ওজন ও পুষ্টিগুণ নিশ্চিত। অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের একমাত্র আশা— সেবা ও খাদ্য নিরাপত্তা। কিন্তু খাদ্যে এমন অনিয়ম চলতে থাকলে প্রকৃত সেবা পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।










