স্বাস্থ্য

লক্ষ্মীপুরে ১১ দিনে ২.৭ লাখ শিশুকে এমআর টিকা প্রদানের মহাযজ্ঞ।

ইকরাম হোসেন রায়পুর প্রতিনিধি:
শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং হাম-রুবেলা প্রতিরোধে লক্ষ্মীপুর জেলায় ব্যাপক পরিসরে শুরু হয়েছে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান ক্যাম্পেইন। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত ১১ কার্যদিবসব্যাপী এ বিশেষ কর্মসূচির আওতায় জেলার ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী মোট ২ লাখ ৭০ হাজার ৮৩০ জন শিশুকে এমআর টিকা প্রদান করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।শনিবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি মতবিনিময় সভায় সিভিল সার্জন ডা. আবু হাসান শাহীন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, হাম ও রুবেলা শিশুদের জন্য অত্যন্ত সংক্রামক ও ঝুঁকিপূর্ণ রোগ। এ রোগ প্রতিরোধে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা। তাই প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনতে অভিভাবকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সদর উপজেলায় ৯৭ হাজার ৪০৪ জন, রায়পুর উপজেলায় ৩৮ হাজার ৬৫২ জন, রামগঞ্জে ৪৪ হাজার ৯৯৭ জন, কমলনগরে ৩৫ হাজার ৫০০ জন, রামগতিতে ৩৬ হাজার ৯৭৪ জন এবং লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় ১৭ হাজার ৩২৩ জন শিশুকে টিকা প্রদান করা হবে।এ বিশাল কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য জেলার বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মোট ১ হাজার ৫৮৪টি টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।এছাড়া মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন ১৮৩ জন সুপারভাইজার, ২০০ জন প্রশিক্ষিত টিকাকর্মী এবং প্রায় ৪০০ জন স্বেচ্ছাসেবী।রায়পুর উপজেলার হায়দরগঞ্জ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের এক ডোজ এমআর টিকা প্রদান করা হবে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম ও রুবেলা শুধু শিশুদের শারীরিক জটিলতাই বাড়ায় না, অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকিও সৃষ্টি করে। তাই সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা প্রতিটি অভিভাবকের দায়িত্ব। সরকারের এ উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিরাপদ ও সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, জেলার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা, স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং অভিভাবকদের সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে। এতে লক্ষ্মীপুরে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হবে এবং শিশুমৃত্যু ও জটিলতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে।জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, নির্ধারিত তারিখে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে গিয়ে টিকা নিশ্চিত করুন। কারণ একটি টিকাই পারে একটি শিশুর সুস্থ, নিরাপদ ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button