ঢাকাস্থ মেঘনা পাড়ের স্বজন ফোরাম-এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও মেঘনায় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত।


ডেক্স রিপোর্টঃ
পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ঢাকাস্থ মেঘনা পাড়ের স্বজন ফোরাম-এর উদ্যোগে ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬’ এবং মেঘনা নদীতে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।এই কর্মসূচি চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলার ৬ নং চরভৈরবী ইউনিয়ন এবং লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার ১ নং উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়ন ও চরবংশী ইউনিয়নে একযোগে আয়োজন করা হয়।পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নদীর প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ১ নং উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের সরদার এম. এ. আলমগীর, মোহাম্মদ ফারুক সরদার, প্রবাসী মো. শাহাবুদ্দিন বেপারী, ৬ নং চরভৈরবী ইউনিয়নের প্রবাসী মোহাম্মদ ফারুক হাওলাদার, প্রবাসী মো. সবুজ বেপারী, প্রবাসী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদার, মো. রোকন খালাসী, প্রবাসী মো. শাহিনসহ এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তি, সমাজসেবক, তরুণ-যুবক এবং স্থানীয় জনসাধারণ। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। পাশাপাশি মেঘনা নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়, যা নদীর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন। বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই সরবরাহ করে না, বরং কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে সহায়তা করে, মাটি ক্ষয়রোধ করে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। তাই প্রতিটি মানুষকে অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।অন্যদিকে, মেঘনা নদীতে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ বলে উল্লেখ করা হয়। নদীতে পর্যাপ্ত মাছের প্রজনন নিশ্চিত হলে স্থানীয় জেলেদের আয় বৃদ্ধি পাবে, নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং দেশীয় মাছের প্রাপ্যতা বাড়বে। এর ফলে পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। স্থানীয়রা জানান, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে পরিচালিত এমন উদ্যোগ শুধু পরিবেশ রক্ষাই নয়, বরং জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজনের আহ্বান জানান। আয়োজকরা বলেন, মেঘনা নদী ও নদী তীরবর্তী জনপদের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় তাদের এই কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে। দেশের প্রতিটি মানুষ যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণ এবং নদী-প্রকৃতি সংরক্ষণে এগিয়ে আসে, তবে একটি সবুজ, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ, নদী রক্ষা এবং জনসম্পৃক্ত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ঢাকাস্থ মেঘনা পাড়ের স্বজন ফোরামের এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি এমন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম দেশের টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।










