চন্দ্রগঞ্জে পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান: একাধিক স্থানে তল্লাশি, মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার।


লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশের উদ্যোগে মাদকের বিস্তার রোধ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং অপরাধ দমনের লক্ষ্যে বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গত ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে চন্দ্রগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর নেতৃত্বে থানাধীন মটবীগ্রাম এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এলাকার কয়েকটি স্থানে একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানের সময় ফারুক, আবুল বাশার, সুজন, সাদ্দাম, রাকিব, কবির, কাদের, আনু তালেব, জোবায়ের, আরিফ, ওয়াজকরুনী, সাইমন, রানা, মিঠুন, কাউসার, মিলন, সবুজসহ আরও কয়েকজনের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মাদক সেবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতির অংশ হিসেবে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন এবং মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে পুলিশ নিয়মিত নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মাদক উৎপাদন, পরিবহন, সংরক্ষণ, বিক্রয়, বহন ও সেবন—সবই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কোনো ব্যক্তি মাদকসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মাদক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি, যা যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয় এবং পরিবার ও সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। তাই শুধু প্রশাসনের একক প্রচেষ্টা নয়, মাদক নির্মূলে অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা এবং সর্বস্তরের জনগণকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকের ভয়াবহতা থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে পরিবারে সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং সন্দেহজনক মাদক কার্যক্রম সম্পর্কে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা অত্যন্ত জরুরি।চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ সকল নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা অপরিহার্য। যে কোনো ধরনের মাদক ব্যবসা, সেবন বা সংশ্লিষ্ট অপরাধের তথ্য নিকটস্থ থানায় বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়ে সচেতন নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এই অভিযানে যেসব ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইনগতভাবে তারা নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই চূড়ান্ত দায়-দায়িত্ব নির্ধারিত হবে।










