

মোঃ আরিফুর রহমান মামুন পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ রাসেল হাওলাদার (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুরাদিয়া বোর্ড অফিস বাজারের ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার রাসেল হাওলাদার উপজেলার মুরাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা।তিনি আলতাফ হাওলাদারের ছেলে। দুমকি থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মুরাদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী নজরদারি ও অভিযান পরিচালনার অংশ হিসেবে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের সামনে সন্দেহভাজন অবস্থায় রাসেল হাওলাদারকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে রাসেলের বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার বিস্তারিত আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন জানান, গ্রেপ্তার রাসেল হাওলাদারের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হচ্ছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই ধ্বংস করে না, এর প্রভাব পরিবার, সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি তৈরি করতে পারে।তাই মাদকবিরোধী অভিযানকে কার্যকর করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগণের সচেতন অংশগ্রহণও জরুরি। আইন অনুযায়ী মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযোগ তদন্ত, আলামত উদ্ধার, মামলা, গ্রেপ্তার এবং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে নিরপরাধ কোনো ব্যক্তিকে হয়রানি না করে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করাও আইনের শাসনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দুমকি থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। মাদক কারবারি, সরবরাহকারী কিংবা মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদক নির্মূলে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; মাদকের উৎস, সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন ও তরুণদের সচেতন করার কার্যকর উদ্যোগও প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি জনসাধারণ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের পথ আরও শক্তিশালী হবে।










