জাতীয়

চাঁদপুরে একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি জেলা প্রশাসনের গভীর শ্রদ্ধা।

ডেক্স রিপোর্টঃ
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহরে চাঁদপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে শুরু হয় পুষ্পস্তবক অর্পণের আনুষ্ঠানিকতা।প্রথমে স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার এবং পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসানসহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসন চাঁদপুরের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।এরপর পর্যায়ক্রমে জেলা পুলিশ, নৌ পুলিশ, পিবিআই, আনসার ও ভিডিপি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট, সিভিল সার্জন কার্যালয়, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল, জেলা পরিষদ, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর পৌরসভা, চাঁদপুর সরকারি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, প্রেসক্লাব, চাঁদপুর রোটারী ক্লাব, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতি, সনাক-টিআইবি, জেলা কারাগার, জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, এনসিপি, গণফোরাম, আনন্দ ধ্বনিসহ সরকারি,
বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। রাতভর নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ খালি পায়ে, হাতে ফুল নিয়ে এবং ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের আবহে শহীদ মিনারে এসে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তরুণ প্রজন্মের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। অনেকেই ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস স্মরণ করে নতুন প্রজন্মের মাঝে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আত্মোৎসর্গকারী সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ নাম-না-জানা শহীদদের স্মরণে সারাদেশের মতো চাঁদপুরেও দিনটি গভীর ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়। ভাষা আন্দোলনের চেতনা বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত্তি রচনা করেছে—এমন মন্তব্য করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা।একুশ মানেই আত্মত্যাগ, একুশ মানেই ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। শহীদদের রক্তে রাঙানো এই দিনটি বাঙালি জাতির গৌরব, অহংকার ও প্রেরণার উৎস হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button