লাইফ স্টাইল

উইচ্যাটের পরিচয় থেকে টাঙ্গাইলে বিয়ে—চীন থেকে ছুটে এলেন প্রেমিক।

এম এ আরিফ চৌধুরীঃ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে শুরু হওয়া এক সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত গড়াল বিয়েতে। প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে এসে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার এক স্কুলছাত্রীকে বিয়ে করেছেন এক চীনা যুবক। ব্যতিক্রমী এই ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জানা গেছে, চীনের গানসু প্রদেশের সানজিয়া টাউনশিপের বাসিন্দা জংজিয়া মামুসার (Zhongjia Mamusar) নামের ওই যুবকের সঙ্গে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার লোকেরপাড়া ইউনিয়নের পাঁচটিকরি গ্রামের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মায়া আক্তারের পরিচয় হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইচ্যাটে। মায়া ওই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মালেকের মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে উইচ্যাটে তাদের মধ্যে প্রথম পরিচয় হয়। শুরুতে বন্ধুত্ব থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই নিয়মিত কথাবার্তার মাধ্যমে সম্পর্ক গভীর হয়ে ওঠে এবং তা প্রেমে রূপ নেয়। দূরত্ব ও ভিন্ন সংস্কৃতির সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তারা একে অপরের প্রতি দৃঢ় আস্থা ও ভালোবাসা অনুভব করতে থাকেন। এদিকে মায়ার পরিবারের পক্ষ থেকে তার বিয়ের বিষয়ে আলোচনা চলছিল।বিষয়টি জানতে পেরে প্রেমের টানে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি চীন থেকে বাংলাদেশে আসেন জংজিয়া মামুসার। তিনি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পাঁচটিকরি গ্রামে এসে মায়ার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। হঠাৎ করে বিদেশি এক যুবকের আগমনে পুরো এলাকায় কৌতূহল সৃষ্টি হয়।আশপাশের গ্রামের অনেক মানুষ তাকে একনজর দেখতে মায়াদের বাড়িতে ভিড় করতে শুরু করেন।পরবর্তীতে উভয় পরিবারের সম্মতিতে ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে স্থানীয় কাজী ডেকে মুসলিম শরিয়াহ অনুযায়ী তাদের বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।বিয়ের সময় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।বিয়ের পর থেকে নবদম্পতিকে গ্রামের বিভিন্ন মেঠোপথ ও এলাকায় একসঙ্গে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে।স্থানীয় সংস্কৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন চীনা যুবক মামুসার। তিনি গ্রামের পরিবেশ ও মানুষের আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়েছেন বলে স্থানীয়দের কাছে জানিয়েছেন।একই সঙ্গে মাছ, মাংস, ভাত, সবজি ও অন্যান্য দেশীয় খাবারও উপভোগ করছেন তিনি। মায়া আক্তার বলেন, “উইচ্যাটে আমাদের পরিচয় হয়েছিল। ধীরে ধীরে আমরা একে অপরকে ভালোবেসে ফেলি।পরে সে আমাকে বিয়ে করার জন্য বাংলাদেশে আসে। এখন আমরা বিয়ে করেছি। ভবিষ্যতে স্বামীর সঙ্গে চীনে গিয়ে নতুন জীবন শুরু করার ইচ্ছা আছে। মায়ার বাবা আব্দুল মালেক বলেন, “শুরুর দিকে বিষয়টি মেনে নেওয়া আমাদের জন্য কঠিন ছিল। বিদেশি একজন মানুষের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে—এটা স্বাভাবিকভাবেই অনেক চিন্তার বিষয় ছিল। তবে মেয়ের সুখের কথা ভেবে এবং ছেলেটির আন্তরিকতা দেখে শেষ পর্যন্ত আমরা রাজি হয়েছি। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে মেয়েকে চীনেও পাঠাতে রাজি আছি। স্থানীয়দের মতে, বিদেশি এক যুবক এবং গ্রামের এক স্কুলছাত্রীর এই ব্যতিক্রমী বিয়ের ঘটনা এলাকায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই কৌতূহলবশত প্রতিদিন মায়াদের বাড়িতে গিয়ে নবদম্পতিকে দেখছেন এবং তাদের শুভকামনা জানাচ্ছেন। গ্রামবাসীর কেউ কেউ এটিকে ভালোবাসার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে দ্রুত সম্পর্ক গড়ে ওঠা নিয়ে সতর্ক থাকার কথাও বলছেন। তবে সবকিছুর পরেও ভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির দুই মানুষের এই মিলন স্থানীয় মানুষের কাছে একটি ব্যতিক্রমী ও আলোচিত ঘটনা হয়ে উঠেছে।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button