

ডেক্স রিপোর্টঃ
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় এজমালি পুকুরের ঘাটলা নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ওমর ফারুক (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে উপজেলার ২নং আলগী দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের ছোট লক্ষীপুর গ্রামের মৃধা বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত ওমর ফারুক উপজেলার ৩নং দক্ষিণ আলগী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের উত্তর চরভাঙ্গা (ঢালী বাড়ি) এলাকার আব্দুল খালেক ঢালীর ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওমর ফারুক তার নানা হাসমত উল্যাহ মৃধার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। দুপুরের দিকে একই বাড়ির এজমালি পুকুরে ঘাটলা নির্মাণকে কেন্দ্র করে হাসমত উল্যাহ মৃধার পরিবারের সঙ্গে প্রতিপক্ষ কুদ্দুস মৃধা, বিল্লাল মৃধা, হাসান মৃধা ও হাবিব মৃধাসহ কয়েকজনের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিপক্ষের লোকজন প্রথমে বৃদ্ধ হাসমত উল্যাহ মৃধাকে মারধরের চেষ্টা করে। এ সময় পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে আসেন তার নাতি ওমর ফারুক। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকজনের চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটানো হয়। পরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ওমর ফারুক গুরুতর আহত হন। গলায় গভীর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তিনি ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হাইমচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, জমি ও এজমালি সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ সময়মতো আইনি ও প্রশাসনিকভাবে নিষ্পত্তি না হলে তা প্রায়ই সহিংস রূপ নেয়। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এ ধরনের বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।










