আইন-আদালত

লোহাগাড়ায় নিহত কোরানে হাফেজ মৃত্যু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট নয় বলৎকারের পর হত্যার অভিযোগ-বাবার আদালতে মামলা।

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৩ নাম্বার ওয়ার্ডের সাতগড়িয়া পাড়ার বাসিন্দা তাসনিমুল হাসান সাজিদ (১৫) এক কোরানে হাফেজ শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে,চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু বলে প্রচার করা হলেও শিশুটির বাবা এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে দাবী করেছেন। এই ঘটনার ৭দিন পর মঙ্গলবার (১জুলাই) ভুক্তভোগী শিশুর পিতা-মাঈনুদ্দিন আজাদ বাদী হয়ে চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২,এ একটি মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ বিচারক জনাবা জান্নাতুল ফেরদৌস চৌধুরী মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সং অধ্যাদেশ ২০২৫) এর ৯(২)/৩০ ধারায় আমলে নিয়ে লোহাগাড়া থানাকে এফআইআর হিসাবে গণ্য করার নির্দেশ প্রদান করেন। দায়েরকৃত মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে, শিশুটির আরবি শিক্ষক ও স্থানীয় একটি জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন নাছির উদ্দিনকে (৩৭) তিনি কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বাসিন্দা। এছাড়া শিশুটির আপন নানা আবুল হোসেনকেও (৫৫) দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাবা মায়ের বিচ্ছেদের কারণে শিশুটি তার নানা বাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়ালেখার পাশাপাশি হাফেজি পড়েছিল। গত (২৪ জুন)বিকালে সে প্রতিদিনের মতো মসজিদের সংলগ্ন কক্ষে আরবি শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে যাই। এজাহারে বাদীর অভিযোগ বিকাল ৪ টা ২০ মিনিটের দিকে শিক্ষক নাছির উদ্দিন ফোন করে শিশুটির মাকে জানান যে সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছে। পরে স্থানীয়রা মসজিদের পাশে একটি পরিত্যক্ত জায়গায় শিশুটির নিথর দেহ খুঁজে পান। তাকে সেখান থেকে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ আনিকা তাসনিন তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বাদীর অভিযোগ, আমার ছেলের লাশের ছবিতে আমি দেখেছি,তার শরীরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের কোন চিহ্ন ছিল না। বরং মাথায় ও গায়ে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট ছিল। ঘটনাস্থল থেকে ৩৩০০ কেভি ভোল্টের বৈদ্যুতিক তার অনেক দুরে অবস্থিত। মূলত বলৎকারের পর মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করে এবং বালিশ চাপা দিয়ে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত মোয়াজ্জিন নাছির উদ্দিন পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে। কিন্তু মসজিদ কমিটির লোকজন তাকে নিজেদের জিম্মায় নেয়,এবং পরবর্তীতে নানা আবুল হোসেনের সহায়তায় নাছির উদ্দিন পালিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। শিশুটির বাবা আরোও অভিযোগ করেন,আমার ছেলের নানা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অভিযুক্ত নাছির উদ্দিনকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তিনি ময়নাতদন্ত ছাড়াই এবং আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তড়িঘড়ি করে দাফন সম্পন্ন করেন। যাহা পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের প্রমাণ লোপাটের একটি চেষ্টা। বাদীর আইনজীবী এডভোকেট আব্দুল লতিফ জানান,আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে অভিযোগের সারবত্তা পাওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন, এবং মামলাটি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লোহাগাড়া থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাছির উদ্দিন ও আবুল হোসেনের বক্তব্য জানতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। আদালতের নির্দেশের পর লোহাগাড়া থানার পুলিশ এখন এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করবে বলে জানা গেছে।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button