

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইন্দোনেশিয়ার জলসীমায় যাত্রীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ২০ জন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও উত্তাল সমুদ্রের মধ্যে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচজন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং স্থানীয় জেলেরা সমন্বিতভাবে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। রোববার (১৯ জুলাই) সকালে দেশটির উদ্ধারকারী সংস্থা ও স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, স্থানীয় সময় শনিবার গভীর রাতে প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে নৌকাটি ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের ভাষ্যমতে, নৌযানটিতে নির্ধারিত ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি যাত্রী বহন করা হচ্ছিল। অতিরিক্ত যাত্রী এবং বৈরী আবহাওয়ার সম্মিলিত প্রভাবে দুর্ঘটনাটি আরও ভয়াবহ রূপ নেয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার এক মুখপাত্র জানান, টানা বৃষ্টি, প্রবল বাতাস এবং উঁচু ঢেউয়ের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সমুদ্র এলাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও উত্তাল ঢেউয়ের সতর্কবার্তা জারি করেছে। প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও নিখোঁজদের সন্ধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নৌযানটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যাত্রী ধারণক্ষমতা, লাইসেন্স এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহনের অভিযোগসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ায় নৌপথ যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তবে নিরাপত্তা বিধি অমান্য, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন এবং বৈরী আবহাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে নৌযান চলাচলের কারণে দেশটিতে প্রায়ই প্রাণঘাতী নৌ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর আবারও নৌ-নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করার দাবি জোরালো হয়েছে। এদিকে, নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনরা উদ্ধার অভিযানের দিকে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা নিয়ে তাকিয়ে আছেন। অনেকেই এখনো প্রিয়জনের খোঁজের অপেক্ষায় রয়েছেন। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিখোঁজের সংখ্যা ও হতাহতের প্রকৃত চিত্র পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।










