

নিজস্ব প্রতিবেদক:সানজিদা আক্তার সৃতিঃ
আজ দিবাগত রাতে সারা দেশে পালিত হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত বা ‘লাইলাতুল বরাত। ফারসি শব্দ ‘শবে বরাত-এর অর্থ হলো মুক্তির রজনী। হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটিকে ইসলামে অত্যন্ত বরকতময় মনে করা হয়। এই রাতে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমত বর্ষণ করেন এবং ক্ষমার দ্বার উন্মুক্ত রাখেন।শবে বরাত মানে কেবল রাত জেগে থাকা নয়, বরং এটি হৃদয়ের কলুষতা দূর করার এক বিশেষ সুযোগ। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, এই রাতে মুমিন মুসলমানরা নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আসকার এবং তাসবিহ পাঠের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন। অনেকে মৃত আত্মীয়-স্বজনের মাগফিরাত কামনায় কবর জিয়ারত করেন।পবিত্র এই রাতকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে কিছু প্রচলিত প্রথা থাকলেও ইসলামের মূল স্পিরিট হলো ইবাদত এবং পরিমিতিবোধ। নিম্নে কিছু বাস্তবধর্মী বিষয় তুলে ধরা হলো:ইসলাম লোক দেখানো ইবাদত পছন্দ করে না। আলোকসজ্জা বা আতশবাজির মতো অপচয়মূলক কাজ থেকে বিরত থেকে নিরিবিলি পরিবেশে আল্লাহর কাছে মোনাজাত করাই এই রাতের প্রকৃত সার্থকতা।হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, মহান আল্লাহ এই রাতে সবাইকে ক্ষমা করেন, কেবল তারা ছাড়া যারা অন্যের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। তাই এই রাতের মূল শিক্ষা হলো মানুষের প্রতি ঘৃণা দূর করে ক্ষমাশীল হওয়া।রাসূলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসে বেশি বেশি রোজা রাখতেন। শবে বরাতের পরবর্তী দিনে নফল রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।আল্লাহর ইবাদতের পাশাপাশি মানুষের অধিকারের (হক্কুল ইবাদ) বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি। উচ্চস্বরে মাইক বাজিয়ে বা শব্দ করে অন্য মানুষের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানো ইসলামের দৃষ্টিতে কাম্য নয়।শবে বরাতকে কেন্দ্র করে মুসলিম পরিবারগুলোতে বিশেষ খাবারের আয়োজন ও প্রতিবেশীদের মাঝে বিতরণের যে সংস্কৃতি রয়েছে, তা সামাজিক ভ্রাতৃত্বকে শক্তিশালী করে। তবে মনে রাখতে হবে, হালুয়া-রুটি বা উৎসবই মূল লক্ষ্য নয়; বরং জীবনের গুনাহগুলো মোচন করিয়ে নতুন করে পথচলার শপথ নেয়াই হলো শবে বরাতের প্রকৃত মাহাত্ম্য।শান্তি, সমৃদ্ধি ও গুনাহমুক্ত জীবনের প্রত্যাশায় আজ মসজিদে মসজিদে এবং ঘরে ঘরে ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা ইবাদতে মশগুল থাকবেন। মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে এই রাতের বরকত নসিব করুন এবং একটি সুন্দর, শান্তিময় ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার তৌফিক দান করুন।










