

একরাম হোসেনঃ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বসতঘরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একজন আহত হয়েছেন। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুনের চেয়েও বড় আতঙ্ক তৈরি করেছে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সড়কের বেহাল দশা। জরুরি মুহূর্তে অগ্নিনির্বাপণ গাড়ি প্রবেশে চরম বাধার মুখে পড়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে হায়দরগঞ্জে দ্রুত উপ-ফায়ার সার্ভিস কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জোরালো হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ১ নম্বর উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের চরপাঙ্গাসিয়া গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের এলাই বক্স পাটোয়ারী বাড়িতে কুদরত উল্লাহ পাটোয়ারীর বসতঘরে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ ঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তের মধ্যেই তা ভয়াবহ রূপ নেয়। আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বাড়িঘরের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ছুটে এসে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেন। স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুনের বিস্তার অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এলেও পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেই সড়কের বেহাল দশা ফায়ার সার্ভিসের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয়দের দাবি, রাস্তার এমন পরিস্থিতি যে অগ্নিনির্বাপণ গাড়ি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে প্রবেশ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। গাড়ি এগিয়ে নিতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদেরও হিমশিম খেতে হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। এ ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে হায়দরগঞ্জে উপ-ফায়ার সার্ভিস কেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা। স্থানীয়দের অভিযোগ, হায়দরগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় প্রায়ই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও কাছাকাছি স্থায়ী ফায়ার সার্ভিস সুবিধা না থাকায় জরুরি সময়ে মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। স্থানীয় বাসিন্দা, বাজার ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের দাবি—আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস আসার অপেক্ষায় বসে থাকার সুযোগ নেই। অগ্নিকাণ্ডের প্রথম কয়েক মিনিটই অনেক সময় ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। অথচ দূরবর্তী স্থান থেকে ফায়ার সার্ভিস আসতে সময় লাগা এবং ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর সড়কের কারণে বাধার মুখে পড়া পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে। স্থানীয়দের ভাষ্য, হায়দরগঞ্জে একটি উপ-ফায়ার সার্ভিস কেন্দ্র থাকলে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারত। এতে আগুন বড় আকার নেওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে আনার সুযোগ থাকত এবং জানমাল ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিও কমানো সম্ভব হতো। বিশেষ করে হায়দরগঞ্জ বাজার ও আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, বাজার এলাকায় বড় ধরনের আগুন ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে একাধিক দোকান ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এলাকাবাসী স্পষ্ট করে বলছেন, হায়দরগঞ্জে উপ-ফায়ার সার্ভিস কেন্দ্র এখন আর কোনো বিলাসী দাবি নয়—এটি মানুষের জানমাল রক্ষার জরুরি প্রয়োজন। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ছাড়া ভবিষ্যতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির দায় এড়ানো কঠিন হবে বলেও মনে করছেন তারা। এদিকে অগ্নিকাণ্ডে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে একজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তির পরিচয় ও শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আগুনে বসতঘরের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেটিও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষয়ক্ষতি গুনে লাভ নেই—আগেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তাই হায়দরগঞ্জে দ্রুত উপ-ফায়ার সার্ভিস কেন্দ্র স্থাপন এবং ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি চলাচলের উপযোগী সড়ক নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থান: চরপাঙ্গাসিয়া, ৭ নং ওয়ার্ড, ১ নং উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়ন, রায়পুর, লক্ষ্মীপুর। বাড়ির মালিক: কুদরত উল্লাহ পাটোয়ারী। ঘটনার সময়: শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টা।










