মসজিদ থেকেই শান্তির বার্তা-মাদক, সন্ত্রাস ও সমাজবিরোধী অপরাধ দমনে জনসচেতনতায় চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি।


ডেক্স রিপোর্টঃ
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন দত্তপাড়া জামে মসজিদে পবিত্র জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে জনসচেতনতামূলক বক্তব্য রাখেন চন্দ্রগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুর রব। তিনি মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং, চুরি, ডাকাতি, জুয়া, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য সমাজবিরোধী অপরাধ নির্মূলে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।বক্তব্যে তিনি বলেন, একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ অপরিহার্য। মাদক ও অপরাধ থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন,অপরাধ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পুলিশকে জানালে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে এবং তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে। অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, আইনের আওতায় এনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ বদ্ধপরিকর।ইসলামের আলোকে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ইসলাম শান্তি, ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও সামাজিক সম্প্রীতির ধর্ম। পবিত্র কোরআন ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা মানুষকে অন্যায়, জুলুম, সন্ত্রাস, মাদকাসক্তি এবং সকল ধরনের অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকতে উদ্বুদ্ধ করে। একজন প্রকৃত মুমিন নিজের চরিত্র, আমল ও আচরণের মাধ্যমে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। তিনি মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বলেন, সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলিতে গড়ে তুলতে অভিভাবকদের আরও যত্নবান হতে হবে। তরুণদের মসজিদমুখী করা, সৎ সঙ্গ নিশ্চিত করা এবং নেশা ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও সমাজকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ সময় তিনি উপস্থিত মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান নয়; এটি নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা এবং মানবকল্যাণেরও অন্যতম কেন্দ্র। তাই মসজিদকে কেন্দ্র করে সমাজে শান্তি, ভ্রাতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। স্থানীয় মুসল্লি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা পুলিশের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেন। তাদের মতে, ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম একসঙ্গে এগিয়ে চললে মাদক, সন্ত্রাস ও সমাজবিরোধী অপরাধ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।সচেতন মহল মনে করেন, ইসলামের শান্তির শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং আইনের শাসনের প্রতি সম্মান—এই তিনটি বিষয়কে সমানভাবে গুরুত্ব দিলে একটি নিরাপদ, মানবিক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রশাসন, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।










