

একরাম হোসেন রায়পুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুর শহরে প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা অমান্য করে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পুরো শহরজুড়ে আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।রবিবার (৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের চকবাজার জামে মসজিদের সামনে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান নেন। একই সময় ‘জুলাই ফাইটার্স’ ব্যানারে ছাত্রদল-সমর্থিত অপর একটি পক্ষও সমাবেশে জড়ো হলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা তীব্র সংঘর্ষে রূপ নেয়।পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। এ সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ওসি ওয়াহিদ পারভেজসহ অন্তত ৮ জন আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।সংঘর্ষ চলাকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক সাইফুল ইসলাম মুরাদসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি। ঘটনার পর শহরের ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কায় দ্রুত দোকানপাট বন্ধ করে দেন। চকবাজারসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের পেছনে পূর্বের একটি বিরোধ কাজ করেছে। শনিবার রাতে হাসপাতাল রোড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী হাবিবুর রহমান ফাহিম এবং জেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক আকবর হোসেন মুন্নার মধ্যে বাকবিতণ্ডার জেরে উত্তেজনা তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়, যা শেষ পর্যন্ত সহিংসতায় গড়ায়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বহাল থাকবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।অন্যদিকে, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাসান মাহমুদ ইব্রাহিম দাবি করেন, তাদের কোনো পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল না এবং ‘জুলাই ফাইটার্স’-এর ব্যানারেই সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।বর্তমানে লক্ষ্মীপুর শহরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সর্বত্র থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।










