
রায়পুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ১নং উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের হায়দরগঞ্জ বাজারে মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যাপক মানববন্ধন ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে হায়দরগঞ্জকে পৌরসভা ঘোষণার দাবিতেও এলাকাবাসী মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তাদের যৌক্তিক দাবি তুলে ধরেন। শনিবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মাদক বর্তমানে দেশের যুবসমাজের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে। এর ভয়াবহ বিস্তার ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করছে। তাই মাদক নির্মূলে প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। ১নং উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়ন মহিলা দলের সভাপতি ও ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী ঝর্ণা বেগম বলেন, মাদক আজ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি। সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে একযোগে কাজ করতে হবে। সচেতন সমাজ গঠনের মাধ্যমেই মাদকমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও শিক্ষানুরাগী আনোয়ার হোসেন রনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। সমাজকে এই অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে হলে সবাইকে তথ্যভিত্তিক সহযোগিতা করতে হবে।যে কোনো মাদক কারবারিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে পারলে আমি ব্যক্তিগতভাবে ৫ হাজার টাকা পুরস্কার প্রদান করবো। তিনি আরও বলেন, যুবসমাজকে খেলাধুলা, শিক্ষা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারলেই মাদকের ভয়াবহতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি খোরশেদ আলম লিটন বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের শত্রু। তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ ও আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিক দৈনিক বর্তমান কথা পত্রিকার রায়পুর প্রতিনিধি মাহবুব কবির সুমন বলেন, মাদকবিরোধী আন্দোলনকে গণমানুষের আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ওয়াসিম আকরাম বলেন, মাদক একটি জাতির অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের বড় অন্তরায়। সুস্থ সমাজ গঠনে ব্যবসায়ী সমাজকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষানুরাগী মুরাদ হোসেন বলেন, শিক্ষার আলো যত বিস্তৃত হবে, মাদকের অন্ধকার তত দূর হবে। নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারলেই একটি সুন্দর ও মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।এসময় বক্তারা হায়দরগঞ্জকে পৌরসভা ঘোষণার দাবিও জোরালোভাবে উত্থাপন করেন। তারা বলেন, হায়দরগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও জনবহুল এলাকা হওয়া সত্ত্বেও আধুনিক নাগরিক সুবিধা থেকে অনেকাংশে বঞ্চিত। পৌরসভা বাস্তবায়িত হলে সড়ক যোগাযোগ,ড্রেনেজ ব্যবস্থা,স্বাস্থ্যসেবা,শিক্ষা,পরিচ্ছন্নতা ও নগর ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে। এতে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে এবং জনগণ উন্নত নাগরিক সুবিধা লাভ করবে। বক্তারা আরও বলেন, মাদকমুক্ত ও উন্নত সমাজ গঠনে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,রাজনৈতিক সংগঠন, ব্যবসায়ী মহল এবং গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে যুবসমাজকে রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।কর্মসূচিতে স্থানীয় সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও বিপুল সংখ্যক সচেতন নাগরিক উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।










