

বুলবুল আহমেদ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জঃ
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের মিঠাপুর গ্রামে সরকারি খাল ও খাসজমি দখলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্র দীর্ঘদিন ধরে সরকারি রাজখাল, পানি নিষ্কাশনের পথ, জানাজার স্থান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্মশানে যাতায়াতের রাস্তা দখল করে অবৈধভাবে বিক্রি ও স্থাপনা নির্মাণ করে আসছে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় এক সাংবাদিক পরিবারকে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিঠাপুর গ্রামের একমাত্র পানি নিষ্কাশনের খালটি দখল করে টিনশেড ও পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গ্রামবাসীর দাবি, সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ানের জায়গা প্রভাবশালীরা জবরদখল করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করছেন। এতে গ্রামের সামাজিক পরিবেশ ও জনস্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মৃত ফটিক মিয়ার ছেলে নুরুল হোসেন ও তার ভাতিজা জুয়েলের নেতৃত্বে একটি চক্র সরকারি খালের জায়গা দখল করে সেখানে ঘর নির্মাণের সুযোগ করে দেয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী একাধিকবার প্রতিবাদ জানিয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, তফসিল অফিস ও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে আদালত থেকেও ১৪৪ ধারার আদেশ জারি হয়েছিল বলে জানা গেছে।সরকারি সম্পদ রক্ষার দাবিতে আন্দোলনে যুক্ত হন স্থানীয় সাংবাদিক ও নবীগঞ্জ অনলাইন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বুলবুল আহমদ। অভিযোগ রয়েছে, এরপর থেকেই তার ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে থানা ও আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।এদিকে মঙ্গলবার সকালে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে সরকারি রাজখালের ওপর চলমান একটি পাকা ঘরের নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেন এবং সেখানে লাল নিশানা টানিয়ে সতর্কতা জারি করেন। তিনি জানান, পরবর্তীতে সরকারি খাসজমি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সাংবাদিক বুলবুল আহমদ বলেন, গ্রামের পানি নিষ্কাশনের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। সরকারি সম্পদ রক্ষার দাবিতে আমরা প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু এর জেরে আমার পরিবারকে হয়রানিমূলক মামলা ও অপপ্রচারের শিকার হতে হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল সরকারি খাল ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট জায়গা রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে সরকারি সম্পদ উদ্ধার করা হবে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল ও পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হবে।










