ইসলামিক

হায়দারগঞ্জ ইসলাম মাস্টার বাড়ি ইসালে সওয়াব মাহফিল: কুরআন-সুন্নাহর আলোয় আলোকিত।

ডেক্স রিপোর্টঃ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ১নং উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে অবস্থিত মরহুম ইসলাম মাস্টার বাড়ি জামে মসজিদে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ১০৮তম বার্ষিক ইসালে সওয়াব ও তাফসীরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেল ৪টায় মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসীর সার্বিক উদ্যোগে আয়োজিত এ মাহফিলটি স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। গ্রামজুড়ে এক ধরনের আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যেখানে ছোট-বড় সকল বয়সের মুসল্লিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চর আবাবিল ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি খোরশেদ আলম লিটন এবং সাবলীল সঞ্চালনায় দায়িত্ব পালন করেন মাস্টার আবুল কালাম।প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হায়দারগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানের খতিব ছাইয়্যেদ জায়েদ ইজ্জুদ্দীন তাহের জাবেরী আল মাদানী। তিনি কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মানবজীবনের নৈতিকতা, আত্মশুদ্ধি এবং সমাজে ন্যায়-নীতির চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর হৃদয়গ্রাহী আলোচনা উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে গভীর প্রভাব ফেলে।আলোচনা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাওলানা মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম যুক্তিবাদী। তিনি ইসলামের সঠিক জ্ঞান অর্জন, কুসংস্কার পরিহার এবং তরুণ প্রজন্মকে দ্বীনের পথে উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে মসজিদের উন্নয়ন, সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন ইসলাম মাস্টার বাড়ির কৃতি সন্তান ও মসজিদের মোতাওয়াল্লি মাহবুবুল কবির সুমন। তিনি মসজিদকে কেন্দ্র করে সামাজিক ঐক্য, শিক্ষা বিস্তার এবং মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। এসময় মসজিদ কমিটির সভাপতি, সেক্রেটারি ও অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, স্থানীয় সাংবাদিক এবং এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ্য, দীর্ঘ এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসা এই মাহফিলটি শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজনই নয়, বরং স্থানীয়দের মাঝে ভ্রাতৃত্ববোধ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং নৈতিক চেতনা জাগ্রত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। প্রতি বছরই এই মাহফিলকে কেন্দ্র করে এলাকার প্রবাসী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এক ধরনের মিলনবন্ধন তৈরি হয়, যা গ্রামীণ সমাজব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। সার্বিকভাবে, সুশৃঙ্খল আয়োজন, মনোমুগ্ধকর তাফসীর এবং আন্তরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে এবারের মাহফিলটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Back to top button