অনুসন্ধান

নবীগঞ্জে নদী খনন দুর্নীতির খবর প্রকাশে সাংবাদিকের ওপর হামলা, ১০ দিনেও গ্রেপ্তার নেই।

বুলবুল আহমেদ নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় জাইকা প্রকল্পের আওতায় নদী খনন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সংবাদকর্মীর ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে। আহত সাংবাদিক আলী হোসেন (আলী বিডি) বর্তমানে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার ১০ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৪নং দীঘলবাক ইউনিয়নের শেরখাই ও নরখাই নদীতে জাইকা প্রকল্পের অধীনে গত প্রায় তিন বছর ধরে খনন কাজ চলছে। এই প্রকল্পে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক আলী হোসেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর—উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং দুদকের প্রতিনিধিরা সরেজমিনে তদন্তও করেন।অভিযোগ রয়েছে, এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রকল্পের সাব-ঠিকাদার শাহান চৌধুরী ও তার সহযোগীরা সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দিতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কামারগাঁও বাজার এলাকায় আলী হোসেনের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়।প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা কাঠের রুয়েলসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং হাত-পায়ের হাড় ভেঙে যায়। স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেটে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা তার বাম হাতে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও আর্থিক সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়েও তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। আহত সাংবাদিক আলী হোসেন বলেন, আমি শুধু সত্য তুলে ধরেছি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করাই আমার অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা করা হয়েছিল। এ কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় নবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হলেও অভিযোগ রয়েছে, এখনো পর্যন্ত মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে রেকর্ড ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে স্থানীয় জনগণ ও সাংবাদিক মহলে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) দুলাল মিয়া জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। বিশ্লেষণ ও জনমতের প্রতিফলন: সাংবাদিকদের ওপর হামলা কেবল ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সত্য প্রকাশের অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলে। বিশেষ করে উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করলে যদি এ ধরনের সহিংসতার শিকার হতে হয়, তাহলে তা সমাজে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাধাগ্রস্ত হয়। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ঘটনায় দ্রুত ও দৃশ্যমান আইনগত পদক্ষেপ না নিলে অপরাধীদের মধ্যে দায়মুক্তির প্রবণতা বাড়বে। পাশাপাশি আহত সাংবাদিকের চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোও জরুরি মানবিক দায়িত্ব। সর্বোপরি, একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button