কলকাতা

বরানগরে মমতার শক্তি প্রদর্শন, জনসমুদ্রে রূপ নিল ভোটের রোড শো

সমরেশ রায় পশ্চিমবঙ্গ কলকাতাঃ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের বরানগরে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হলো বিশাল রোড শো, যা ঘিরে পুরো এলাকা রূপ নেয় জনসমুদ্রে। ২০২৬ সালের নির্বাচনের বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতেই কামারহাটির ডানলপ মোড় থেকে সিঁথি মোড় পর্যন্ত এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা আয়োজন করে তৃণমূল কংগ্রেস।দুপুর প্রায় তিনটায় শুরু হওয়া এই রোড শোতে অংশ নিতে সকাল থেকেই রাস্তার দু’পাশে জড়ো হতে থাকেন হাজারো মানুষ। নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতীসহ সব বয়সী মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই হাতে দলীয় পতাকা, ব্যানার ও পোস্টার নিয়ে “দিদি”কে স্বাগত জানান। পুরো এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়।রোড শোতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বরানগরের বিধায়িকা সায়ন্তিকা ব্যানার্জি, দমদম লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ সৌগত রায়, ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ পার্থ ভৌমিক, কামারহাটি বিধানসভার প্রার্থী মদন মিত্রসহ তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা-কর্মী ও জনপ্রতিনিধি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অপর্ণা মৌলিক, দিলীপ নারায়ণ বসু, অঞ্জন পাল, রামকৃষ্ণ পাল, শম্পা কুন্ডু, নিলু গুপ্তা, পুষ্প রায়, সঞ্চিতা দে এবং স্থানীয় বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা।রোড শোকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ডানলপ মোড় থেকে সিঁথি মোড় পর্যন্ত পুরো পথজুড়ে পুলিশি নিরাপত্তার বলয় তৈরি করা হয়। তবুও বিপুল জনসমাগমের মাঝে কিছু ব্যতিক্রমী ঘটনাও ঘটে। এক নারীকে দেখা যায় মোবাইল ফোন হাতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।একই সঙ্গে রোড শোর মাঝ দিয়েই একটি অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত পার হয়ে যেতে দেখা যায়, যা উপস্থিত জনতার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।রোড শো চলাকালে স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়। কোথাও ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, কোথাও ঢাক-ঢোলের তালে উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে এটি যেন এক গণউৎসবে পরিণত হয়। বিশেষ করে তৃণমূল প্রার্থীকে স্বাগত জানাতে কিছু নারীকে মাথায় কলসি নিয়ে নাচতে দেখা যায়, যা উপস্থিত জনতার মধ্যে বাড়তি উৎসাহ সৃষ্টি করে।রোড শো শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সায়ন্তিকা ব্যানার্জি বলেন, বরানগরের মানুষ অত্যন্ত আনন্দিত যে মুখ্যমন্ত্রী স্বশরীরে এসে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।তিনি বলেন, আজকের এই বিপুল জনসমাগমই প্রমাণ করে মানুষ দিদির ওপর আস্থা রাখে এবং আবারও তাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়।বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে তিনি আরও বলেন, “গত দেড় বছরে আমি যতটা সম্ভব কাজ করার চেষ্টা করেছি। এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে, যা আগামী দিনে সম্পন্ন করার চেষ্টা করব।বিরোধীরা সমালোচনা করবেই, কারণ তারা বুঝতে পারছে মানুষের সমর্থন তাদের কাছ থেকে সরে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রোড শো শুধুমাত্র একটি প্রচার কর্মসূচি নয়, বরং আসন্ন নির্বাচনের আগে শক্তি প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। বিপুল জনসমাগম তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনগত শক্তিরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন তারা।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button