

সমরেশ রায় পশ্চিমবঙ্গ কলকাতাঃ
আজ ১০ই মে রবিবার, কলকাতা জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে, ৯ই মে শনিবার,ঠিক সকাল ছটায়। প্রতিবছরের ন্যায়, এই বৎসরও পালিত হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৬ তম জন্মোৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মেলা।মালা পরিয়ে রবীন্দ্রনাথের ১৬৬ তম জন্মোৎসব পালন করলেন, নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শপথ গ্রহণের পর বেলা একটা নাগাদ তিনি পোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে পদ্ম ফুলের মালা দিয়ে সম্মাননা জানান। এই প্রথম বাংলায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী পদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে শ্রদ্ধা জানালেন। এছাড়াও সম্মাননা জানান তৃণমূল কংগ্রেসের স্মিতা বক্সী ও মদন মিত্র এবং কমরেড বিমান বসু। যাহারা এতদিন ধরে রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনটিতে স্মরণ করে এসেছিলেন জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে, আজ তাহাদের মধ্যে তেমন কাউকেই দেখা গেল না। যে সকল শিল্পীরা এবং রবীন্দ্র প্রেমীরা সকাল থেকে জোড়াসাঁকো রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় উপস্থিত থাকেন সুন্দর অনুষ্ঠানটি অনুভব করার জন্য এবং রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করার জন্য। তাহারা বলেন আমরা যাহাদেরকে এত বছর ধরে দেখে এসেছি এবং রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিতে মালা দিয়ে সম্মাননা জ্ঞাপন করতে দেখেছি, আজ তাহাদের কাউকেই চোখে পড়লো না। তাহারা বলেন কবি, সাহিত্যিক, মন্দির, শিল্পীরা কাহারো একার হয় না, সবার সম্মান জানানোর অধিকার থাকে, কিন্তু এই বছরই স্থানে অনেকটাই পরিবর্তন দেখা গেল। শিল্পীদের মধ্যে এবং নেতা-নেত্রীদের মধ্যে। বিশ্ববরেণ্য রবীন্দ্রনাথকে দূরে রাখার চেষ্টা করলো। সারা ভারতবর্ষ জুড়ে এই দিনটি সবাই অপেক্ষা করে থাকে কবি শিল্পী সাহিত্যিক এবং রবীন্দ্র প্রেমী মানুষেরা, একটাবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। তাই স্কুল কলেজ থেকে শুরু করে ক্লাব প্রাঙ্গনে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় এই দিনটি। নব আনন্দে জাগো আজি নব কিরণে –
শুভ সুন্দর প্রীতি উজ্জ্বল নির্মল জীবনে। উৎসারিত নব জীবননিরঝর উচ্ছ্বাসিত আশাগীতি। অমৃতপুষ্পগন্ধ বহে আজি এই শান্তিপবনে। এই লেখার মধ্য দিয়ে মনে হয়েছে, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিছুটা ম্লান হয়ে পড়লেন। যতটা আনন্দ জাগে কবির মনে, হয়তো কিছুটা হলেও সেই আনন্দ আর নাই। সকলের মনে কিছুটা হতাশার দাগ। সেই সকল শিল্পীদেরও দেখতে না পেয়ে।সারাদিন রাত চলে, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে-নাচ ,গান, কবিতা, শ্রদ্ধার্ঘ্য এবং দূর-দূরান্ত থেকে রবীন্দ্র প্রেমী মানুষ জনেদের। নাচ গান ও কবিতায়, মঞ্চকে যাহারা আলোকিত করে রেখেছিলেন—-তাহাদের মধ্যে ছিলেন,রবীন্দ্রভারতীর সকল ছাত্র-ছাত্রী, এবং উপাচার্য অধ্যাপক সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়। শিল্পী ও কবিদের মধ্যে ছিলেন। অগ্নিভ বন্দোপাধ্যায়, বিথীকা মন্ডল,গার্গীদাস বক্সী, মহুয়া মুখোপাধ্যায়, মহুয়া চক্রবর্তী, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত,শতরূপা মুখোপাধ্যায়, শ্রীতমা রায়, বিজয় লক্ষী বর্মন,অরিন্দম গাঙ্গুলী, উর্মিমালা বসু, ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রাবলী রুদ্র দত্ত, শ্রাবণী সেন, জগন্নাথ বসু, মনোময় ভট্টাচার্য, দেবেশ রায়চৌধুরী, শ্রেয়া চক্রবর্তী, দেবলীনা চক্রবর্তী,গার্গী মজুমদার,নুপুর গাঙ্গুলী,সহ একাধিক শিল্পী ও কবিরা।সারা ভারতবর্ষ জুড়ে একইভাবে, ছোট ছোট শিল্পীদের নৃত্য, গানে ও কবিতায় মুখর হয়ে উঠেছিল রবীন্দ্র মঞ্চগুলি। কবিগুরু কে শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানানোর জন্য।










