অপরাধ

ভেদরগঞ্জে কৃষি নারী কর্মকর্তা ফাতেমার বিরুদ্ধে কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ৩ তলায় বসবাসের অভিযোগ।

অনুসন্ধান প্রতিবেদনঃ
কৃষি অফিসেই আরাম আয়েশে বসবাস করছে দীর্ঘদিন যাবত ফাতেমা ইসলাম। কোয়ার্টার ছেড়ে পরিবার নিয়ে থাকছেন তৃতীয় তলায় লাগিয়েছেন এসি, দিতে হয় না পানি-বিদ্যুৎ বিল সরকারি অফিসেই পরিবার-পরিজন নিয়েই বেশ আরাম আয়েশে জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। ভবনের ৩ তলার পুরোটাই তার দখলে। এছাড়া শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার জন্য বেডরুমে রয়েছে দেড় টনের একটি এসির সুব্যবস্থা রয়েছে। দিতে হয় না বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল, বাসা ভাড়াসহ নানা খরচ। সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করেই শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার কৃষি অফিসারের কার্যালয় ও কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ৩ তলায় দীর্ঘ দেড় বছর ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফাতেমা ইসলাম। এ নিয়ে উপজেলায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সরেজমিনে ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের তিন তলায় উঠতে গেলে অফিসের একজন কর্মচারী বাধা দেন। বলেন, উপরে ম্যাডাম ও তার পরিবার নিয়ে থাকেন, ভাই আপনি ২য় তলায় বসুন, ম্যাডাম বাইরে গেছেন। উপরে ম্যাডামের ডাক্তার স্বামী ও তার মা দুই সন্তান আছেন। খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, উপজেলার কৃষি অফিসের জন্য আলাদা করে ৩ তলাবিশিষ্ট নতুন ভবনে প্রায় দেড় বছরের কাছাকাছি সময় ধরে সপরিবারে তিনি বসবাস করছেন। সরকারি অফিসকে নিজের বাসা বানিয়ে ফেলেছেন তিনি। তিন তলায় ৩ থেকে ৪ রুমবিশিষ্ট একটি ফ্ল্যাট। সেখানে সরকারি অফিস পরিচালনা না করে তিনি করছেন পরিবার নিয়ে বসবাস।সরকারি কর্মকর্তার সরকারি কোয়ার্টারে থাকার বিধান থাকলেও অফিস কক্ষের মধ্যে বসবাস করছেন তিনি। তাতে মাসে তার বাসা ভাড়া, বিদ্যুৎ, পানি বিলসহ আনুমানিক ২৫-৩০ হাজার টাকা বেঁচে যায়। কিন্তু সরকারিভাবে তিনি বাসা ভাড়াসহ সব ভাতাই মাসে মাসে পাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলার অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যে অস্বস্তি বিরাজ করছে। তিনি ২০২০ সালে এ উপজেলাতে যোগদান করার পর পরিবার নিয়ে থাকতেন উপজেলার একটি কোয়ার্টারে। কিন্তু নতুন করে উপজেলার কৃষি অফিসারের কার্যালয় ও কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নির্মাণের পর থেকেই তিনি সেখানে ঘাঁটি গেড়ে বসেছেন। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, এরকম কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজ একজন বিসিএস কর্মকর্তার কাছে জাতি কখনোই আশা করে না।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফাতেমা ইসলাম বলেন, আমাদের ডিডি স্যার এডি স্যারদের মৌখিক অনুমতি নিয়েই আমি এখানে বসবাস করছি। আর ভাই মহিলা মানুষ এখানে তো কোনো বাসা ভাড়া পাচ্ছি না। উপরের তৃতীয় তলায় হলো কৃষি অফিসারের রেস্ট রুম। তাই স্যারদের অনুমতি সাপেক্ষে আমি এখানে বসবাস করছি।উপজেলা পরিষদ বাসা ভাড়া কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য মণ্ডল বলেন, ভবনটি কৃষি মন্ত্রণালয়ের তৈরি। তাই এ বিষয়ে জেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গেই কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন, ওই অফিসের তৃতীয় তলায় কৃষি কর্মকর্তা ফাতেমা ইসলামের থাকার বিষয়টি আমি জানি না। আমি অনুমতি দেইনি। যদি আমার আগে কোনো অফিসার অনুমতি দিয়ে থেকে তাহলে হতে পারে। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে আপনাকে জানাবো।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button