

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ২ নং চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাট এলাকায় বিএনপির ২ গ্রুপের সংঘর্ষে এক প্রবাসী নিহত হওয়ার পরদিন তিনটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে চরবংশীর রুহুল আমিন খাঁদের বাড়ি, আরিফ সরদারের বাড়ি ও গাজী বাড়িতে এ হামলা চালানো হয়।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগের দিন সংঘর্ষের জেরে একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে হঠাৎ করে ওই তিনটি বাড়িতে হামলা চালায়। পরে ঘরে থাকা মালামাল ভাংচুর ,লুট করে এবং ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৭ এপ্রিল বিএনপি নেতা মেহেদী কবিরাজ ও উপজেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব শামীম গাজীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক প্রবাসী নিহত হন এবং অন্তত ২০ জন আহত হন। এর পরদিন সকালেই-শামীম গাজীর গ্রুপের সমর্থকদের বিরুদ্ধে তিনটি বাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়রা তৎপর হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। একই সময়ে সেনাবাহিনীর একটি দল এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাদের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। এ বিষয়ে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে মোহসিন কাজী নামের এক ব্যক্তি বলেন, আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। এই ঘটনায় আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। তার এই বক্তব্য এলাকায় নানা আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।এদিকে শামিম গাজী বলেন।গতকালকে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তারা এলোপাথাড়ি গুলি বর্ষণ করেন এবং আমার প্রবাসী আত্মীয় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা হয়নি, তবে ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে পুরো খাসেরহাট এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ নিয়মিত টহল দিচ্ছে এবং স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।










