বিরুলিয়া ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ: তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি স্থানীয়দের।


নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকার সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মহসিন মিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বাড়ছে।ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন নাগরিক সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সংস্কৃতি সাধারণ মানুষের ভোগান্তির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে এলাকার নাগরিকদের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশ কায়েম সনদ, নাগরিকত্ব সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, প্রত্যয়নপত্রসহ বিভিন্ন মৌলিক প্রশাসনিক সেবা প্রদান করে থাকে। কিন্তু এসব সেবা গ্রহণ করতে গিয়ে অনেকেই হয়রানি ও অনাকাঙ্ক্ষিত আর্থিক চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, সচিব মহসিন মিয়ার দায়িত্বকালীন সময়ে বিভিন্ন সনদপত্র ও প্রশাসনিক সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রবণতা দেখা গেছে।অভিযোগকারীদের দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে সেবা পেতে বিলম্ব করা হয় এবং বিভিন্ন অজুহাতে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির শিকার হতে হয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রকল্প ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন খাতের আর্থিক লেনদেনেও স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি, তবুও দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগের ধারাবাহিকতা সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ইউনিয়ন পরিষদ জনগণের সবচেয়ে নিকটবর্তী সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সমাজকর্মী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রমে সচিবের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব নয়। জনগণের আস্থা রক্ষার স্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।স্থানীয়দের দাবি, বিগত সময়ে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে তথ্য-উপাত্তসহ একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো তদন্ত কার্যক্রম বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার খবর পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সুশাসন বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাতে ব্যাহত হতে পারে। ইউনিয়ন পরিষদে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ডিজিটাল মনিটরিং, নির্ধারিত ফি তালিকা প্রকাশ, অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং নিয়মিত অডিট কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন এবং সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। তাই স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মহসিন মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে। এদিকে উপজেলা প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লিখিত আবেদন বা প্রমাণাদি পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করে, ইউনিয়ন পরিষদের সেবার মানোন্নয়ন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং উন্নয়ন প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে জনগণ হয়রানিমুক্তভাবে সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারে এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়।










