

ইকরাম হোসেনঃ
পাসের হার মাত্র ৬২.২৫ শতাংশ—ব্যর্থতার দায় শুধু শিক্ষার্থীর নয়, শিক্ষা ব্যবস্থারও; অভিভাবক-শিক্ষকদের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী। সোমবার প্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গভীর ব্যর্থতাকেই আবারও সামনে এনেছে। গড় পাসের হার মাত্র ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ—যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার আজ হতাশা, লজ্জা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ফেসবুক পোস্টে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ‘হতাশ না হওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা কি শুধুই হতাশা কাটিয়ে উঠবে, নাকি শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত ব্যর্থতাও স্বীকার করতে হবে—এ প্রশ্ন এখন জাতীয়ভাবে উঠছে। শিক্ষামন্ত্রী তার পোস্টে লিখেছেন, আজকের ফলাফল তোমার পরিচয় নয়, সেটি কেবল পরীক্ষার সেই নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টায় তোমার খাতায় লেখার একটা হিসাব মাত্র। তোমার পরিশ্রম, তোমার স্বপ্ন, এসবের কোনো নম্বর হয় না।’ তিনি আরও বলেন, ফল প্রকাশের দিন অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য বেদনাদায়ক হতে পারে। বন্ধুদের আনন্দ, পরিবারের নীরবতা এবং নিজের ভেতরের অস্বস্তি মিলিয়ে মনে হতে পারে সবকিছু থেমে গেছে। কিন্তু তিনি দাবি করেন—না, থামেনি। কিছুই থামেনি। মন্ত্রী প্রতিবেশীর কৌতূহল, আত্মীয়ের তুলনা এবং সহপাঠীদের উপেক্ষার কথা উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, অকৃতকার্য সন্তানকে বকাঝকা বা ভর্ৎসনা না করে আদর ও স্নেহ দিয়ে পাশে দাঁড়াতে। ঘরটিকে ওর জন্য আদালত নয়, আশ্রয় করে তুলুন’—এমন পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেন শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়েছে সেই কারণ খুঁজে বের করা তাদের দায়িত্ব। ব্যর্থতার দায় শুধু শিক্ষার্থীর নয়।তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই শিক্ষার্থীরা একদিন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের পাশে থাকবে। তবে বিএনপি ও শিক্ষাবিদদের মহল থেকে প্রশ্ন উঠছে—এত কম পাসের হারের পেছনে শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা কতটা? দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা খাতে অব্যবস্থাপনা, প্রশ্নপত্র ফাঁস, কোচিং বাণিজ্য, মানসম্মত শিক্ষার অভাব এবং পরীক্ষা পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা নিয়ে বারবার সতর্ক করা হয়েছে। ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার দেখিয়ে দিয়েছে যে, শিক্ষা ব্যবস্থায় সংকট আরও গভীর হয়েছে। মন্ত্রীর সান্ত্বনামূলক বক্তব্য অবশ্যই শিক্ষার্থীদের মানসিক শক্তি যোগাতে পারে, কিন্তু কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া কেবল ‘হতাশ না হওয়ার’ আহ্বান কতটা কার্যকর হবে—তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
ফল প্রকাশের পর অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক বলছেন, শুধু পুনঃনিরীক্ষণ নয়, শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন দরকার।
এই ফলাফল শুধু কয়েক লাখ শিক্ষার্থীর নয়—পুরো জাতির জন্য উদ্বেগের বিষয়। শিক্ষার্থীদের জীবনের গল্প শেষ হয়নি ঠিকই, কিন্তু সেই গল্প যেন আরও ভালো হয়, সেজন্য রাষ্ট্রের দায়িত্বও অনেক বেশি।










