শিক্ষা

এসএসসি ২০২৬: সারাদেশে ৫৭ প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস, এক বিদ্যালয়েও নেই সাফল্যের মুখ।

ডেক্স রিপোর্টঃ
এসএসসি ২০২৬: ৩১২ প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস, ৪৬ স্কুলের পূর্ণ তালিকা প্রকাশঢাকা থেকে জেলা-ভিত্তিক প্রতিবেদন২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানের পাসের হার শতভাগ শূন্য।এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ৫৭টি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ২২৬টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ২৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।গত বছর সব মিলিয়ে শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৩৪টি। ফলে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ১৭৮টি।সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।বোর্ডভিত্তিক চিত্রনয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। এর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ, রাজশাহীতে ৬৩ দশমিক ৬৭, কুমিল্লায় ৬৫ দশমিক ৪২, যশোরে ৬৬ দশমিক ২৭, চট্টগ্রামে ৫৯ দশমিক ৪৮, বরিশালে ৬০ দশমিক ৩৫, সিলেটে ৫৮ দশমিক ৩৩, দিনাজপুরে ৫৮ দশমিক ০৫ এবং ময়মনসিংহে ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।১. ঢাকা শিক্ষা বোর্ডঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২০২৬ সালের সাধারণ বোর্ডের ৫৭টির অংশ। তবে প্রকাশিত নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্ণাঙ্গ নাম একত্রে যাচাই করা সম্ভব না হওয়ায় কোনো নাম অনুমান করে প্রকাশ করা হয়নি।২. রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডরাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্ণাঙ্গ নামও প্রকাশিত নির্ভরযোগ্য তথ্য থেকে নিশ্চিতভাবে একত্র করা যায়নি। ফলে যাচাই-বিহীন নাম বাদ রাখা হয়েছে ৩. কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডকুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ক্ষেত্রেও ২০২৬ সালের এসএসসিতে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ নামের তালিকা নির্ভরযোগ্যভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।তাই অনুমাননির্ভর কোনো নাম যুক্ত করা হয়নি।৪. যশোর শিক্ষা বোর্ড—১১ প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাসযশোর শিক্ষা বোর্ডে এবার ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে সাতক্ষীরার চারটি, খুলনার দুটি, বাগেরহাটের একটি এবং যশোর ও শার্শার চারটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।সাতক্ষীরা—৪টি১. সাতক্ষীরা নাইশা মাধ্যমিক স্কুল২.গোদারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়,আশাশুনি৩. সাহেবখালি সিদ্দিক গাজী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শ্যামনগর৪. বাবুরাবাদ ধাপুখালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দেবহাটাএই চার প্রতিষ্ঠানে যথাক্রমে ৭, ৪, ৪ ও ৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।খুলনা—২টি৫. কাটেঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ডুমুরিয়া৬. আসমা সরোয়ার ইসলামিক হাই স্কুল, খালিশপুরবাগেরহাট—১টি৭.ডি.এন.একতা গার্লস হাই স্কুল,শরণখোলাযশোর—২টি৮.চাঁনদুয়া সমাসকাটি গার্লস হাই স্কুল,মণিরামপুর৯. হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি মাধ্যমিক গার্লস স্কুলশার্শা—২টি১০. সারাতলা জুনিয়র গার্লস হাই স্কুল১১. মুক্তিযোদ্ধা জি. কে. জি. এস মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়যশোর শিক্ষা বোর্ড এসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফলকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে।শূন্য পাসের কারণ জানতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।৫. চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড—৮ প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাসচট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবার ৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—১. নারায়ণহাট গার্লস হাইস্কুল, ফটিকছড়ি২. আন্দর মানিক (মাইছছড়ি) জুনিয়র হাইস্কুল, বরকল, রাঙামাটি৩. মোহালছড়ি হাইস্কুল, লংগদু, রাঙামাটি৪. উরিরচর জুনিয়র হাইস্কুল, সন্দ্বীপ৫. ভাইবোনছড়া গার্লস হাইস্কুল, খাগড়াছড়ি৬. জারুলছড়ি হেডম্যান পাড়া হাইস্কুল, দীঘিনালা৭. তারাবানিয়া হাইস্কুল, দীঘিনালা৮. শিলজাক দজার বাজার জুনিয়র স্কুল, বাঘাইছড়িদুর্গম ও পার্বত্য এলাকার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল খুবই কম। কোথাও তিনজন, আবার কোথাও ১০, ১৫, ১৭ কিংবা ১৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠান থেকেই একজনও পাস করতে পারেনি।৬. বরিশাল শিক্ষা বোর্ড—৫ প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাসবরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এবার ৫টি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।এ বোর্ডে এবার সামগ্রিক পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। তবে শূন্য পাস করা পাঁচ প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ নাম নির্ভরযোগ্যভাবে একত্রে যাচাই করা সম্ভব না হওয়ায় নাম প্রকাশে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।৭. সিলেট শিক্ষা বোর্ডসিলেট শিক্ষা বোর্ডে এবার সামগ্রিক পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ৫৭টি শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সিলেটেরও প্রতিষ্ঠান রয়েছে।তবে নির্ভরযোগ্যভাবে যাচাই করা পূর্ণাঙ্গ নামের তালিকা না পাওয়ায় কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম অনুমান করে প্রকাশ করা হয়নি।৮. দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড—১৮ প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাসনয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান রয়েছে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডের মোট ১৮টি বিদ্যালয়ের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।রংপুর—২টি১. কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয়২. ঘাসিপুর উচ্চ বিদ্যালয়গাইবান্ধা—২টি৩. উত্তর দামোদরপুর কাগজীপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়৪. মনোহরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়নীলফামারী—১টি৫. আমবাড়ী বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কুড়িগ্রাম—৪টি৬. তালতলা উচ্চ বিদ্যালয়৭. ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়৮. পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়৯. পূর্ব কুমারপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়লালমনিরহাট—১টি১০. এ.এম. রথবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়দিনাজপুর—১টি১১. গোলাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ঠাকুরগাঁও—৫টি১২. আকছা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়১৩. অনভার দিঘী উচ্চ বিদ্যালয়১৪. মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়১৫. তওয়ারীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়১৬. রামপুর ভাটুরিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়পঞ্চগড়—২টি১৭. বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়১৮. বোদা সরদারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়৯. ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড—৪ প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাসময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীন ৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। বোর্ডটির সামগ্রিক পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।তবে চার প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ নাম নির্ভরযোগ্যভাবে যাচাই করা সম্ভব না হওয়ায় প্রতিবেদনে নাম সংযোজন করা হয়নি।এখন পর্যন্ত নাম নিশ্চিত হওয়া স্কুল কতটি?ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা ও সিলেট বোর্ডের বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম বাদ রাখায় নামসহ নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা যাচ্ছে ৪৬টি প্রতিষ্ঠান।হিসাবটি হলো—দিনাজপুর বোর্ড—১৮টিযশোর বোর্ড—১১টিচট্টগ্রাম বোর্ড — ৮টিবরিশাল বোর্ড — ৫টিময়মনসিংহ বোর্ড — ৪টিমোট = ৪৬টি প্রতিষ্ঠান।সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডে মোট শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান ৫৭টি। অর্থাৎ উপরোক্ত তালিকার বাইরে আরও ১১টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলোর নাম সরকারি/বোর্ডভিত্তিক পূর্ণ তালিকা থেকে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ২২৬টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২৯টি প্রতিষ্ঠান শূন্য পাস করায় তিন ধরনের বোর্ড মিলিয়ে মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১২টি।সার্বিক ফলাফলেও উদ্বেগ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ৩০ হাজার ৪০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এর মধ্যে ৬৬৯টি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছে।বিপরীতে ৩১২টি প্রতিষ্ঠানে একজনও পাস করতে পারেনি।১১টি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এবারের পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।কেন এমন ফল?একটি প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী ফেল করলেই শুধু শিক্ষার্থীদের দুর্বলতাকে দায়ী করা যায় না। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষক সংকট, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকা, নিয়মিত পাঠদান না হওয়া, শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি, ঝরে পড়া, ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতা, আর্থিক সংকট এবং অভিভাবকদের পর্যাপ্ত সহযোগিতার অভাব ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।বিশেষ করে দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে এসব সমস্যা আরও প্রকট হতে পারে।ফলে একটি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টিকে শুধু পরীক্ষার্থীদের ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে শিক্ষক, পাঠদান, প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা ও একাডেমিক তদারকির সামগ্রিক চিত্র হিসেবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বড় সতর্কবার্তাএক বছরের ব্যবধানে শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৩৪ থেকে বেড়ে ৩১২ হওয়া শিক্ষা প্রশাসনের জন্য নিঃসন্দেহে বড় সতর্কবার্তা।শূন্য পাস করা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে আলাদাভাবে পর্যালোচনা করে দেখা প্রয়োজন—কতজন পরীক্ষার্থী ছিল, কোন বিষয়ে বেশি অকৃতকার্য হয়েছে, নিয়মিত ক্লাস হয়েছে কি না, শিক্ষক উপস্থিতি কেমন ছিল, শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার কত এবং প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক তদারকি কতটা কার্যকর ছিল।কারণ একটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার ঘটনা শুধু একটি পরীক্ষার ফল নয়; এটি ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ও ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক চিত্রও সামনে আনে।বিশেষ সতর্কীকরণ: ২০২৬ সালের সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ৫৭টি শূন্য-পাস প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ সরকারি তালিকা একত্রে যাচাই না করে কোনো নামকে চূড়ান্ত তালিকা হিসেবে প্রকাশ করা ঠিক হবে না। এই প্রতিবেদনে নিশ্চিতভাবে যাচাই করা ৪৬টি প্রতিষ্ঠানের নাম রাখা হয়েছে। বাকি ১১টি প্রতিষ্ঠানের নাম সরকারি বোর্ডভিত্তিক তালিকা থেকে নিশ্চিত হওয়ার পর সংযোজন করলেই প্রতিবেদনটি পূর্ণাঙ্গ ৫৭ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় পরিণত হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button