অনুসন্ধান

এআই কণ্ঠে ‘আপনি লটারি জিতেছেন— আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের নতুন কৌশল, ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ।

ডেক্স রিপোর্টঃ
রোবোকল, ভুয়া কাস্টমার কেয়ার ও WhatsApp ফাঁদে প্রতিদিন বাড়ছে সাইবার প্রতারণা।ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যাচ্ছে প্রতারণার ধরনও।একসময় শুধুমাত্র ভুয়া এসএমএস বা ফোনকলের মাধ্যমে মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হতো। এখন সেই জায়গায় যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি। এআই-নির্ভর রেকর্ড করা কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের নম্বর থেকে ফোন দিয়ে সাধারণ মানুষকে লটারিতে পুরস্কার জেতার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণা চক্রের নতুন কৌশল, যার লক্ষ্য মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়া।সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অনেক মোবাইল ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন, বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে একটি স্বয়ংক্রিয় কণ্ঠে জানানো হচ্ছে—“অভিনন্দন! আপনি একটি মূল্যবান পুরস্কার জিতেছেন। দ্রুত WhatsApp-এ যোগাযোগ করুন অথবা আমাদের কাস্টমার কেয়ারে কল করুন।” অনেক ক্ষেত্রে কলের ভাষা একই, কণ্ঠস্বর একই এবং নির্দেশনাও একই ধরনের হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি স্বয়ংক্রিয় এআই-চালিত কলিং সিস্টেম বা রোবোকল।সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের কলের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের কৌতূহল ও লোভকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণার জাল বিস্তার করা। প্রথমে পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে WhatsApp বা অন্য কোনো মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বলা হয়। এরপর ধাপে ধাপে ব্যক্তিগত তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ব্যাংকিং তথ্য কিংবা এককালীন “প্রসেসিং ফি” বা “ট্যাক্স” দেওয়ার কথা বলা হয়। একবার তথ্য বা অর্থ হাতছাড়া হলে তা উদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, বর্তমানে প্রতারকরা আন্তর্জাতিক নম্বর ব্যবহার করলেও অনেক সময় নম্বরটি আসল নয়। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ফোন নম্বর পরিবর্তন বা ‘স্পুফিং’ করে অন্য দেশের নম্বর দেখিয়ে কল করা সম্ভব। ফলে নম্বর দেখে প্রতারকদের প্রকৃত অবস্থান নির্ণয় করা সবসময় সম্ভব হয় না। সচেতন মহলের মতে, কোনো ব্যক্তি যদি সত্যিই কোনো বৈধ লটারিতে পুরস্কার জিতে থাকেন, তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কখনোই ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ দাবি করে না। অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন পেয়ে কোনো অবস্থাতেই OTP, ব্যাংক হিসাব, পাসওয়ার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং PIN বা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দেওয়া উচিত নয়।বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, সন্দেহজনক কল পেলে তা দ্রুত কেটে দেওয়া, নম্বরটি ব্লক করা এবং প্রয়োজনে মোবাইল অপারেটর বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত। পাশাপাশি WhatsApp বা SMS-এ পাঠানো কোনো অচেনা লিংকে ক্লিক না করাই নিরাপদ। দেশে ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদেরও এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক করা জরুরি, যাতে কেউ লোভ বা অসাবধানতার কারণে প্রতারণার শিকার না হন। বিডি মেঘনা নিউজ ২৪-এর পক্ষ থেকে সকলের প্রতি আহ্বান—অপরিচিত নম্বর থেকে পুরস্কার, লটারি, উপহার বা আর্থিক সুবিধার প্রলোভন দেখানো হলে আগে যাচাই করুন, তারপর সিদ্ধান্ত নিন। সামান্য সচেতনতাই আপনাকে বড় ধরনের আর্থিক ও ব্যক্তিগত ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button