

মোঃ নুরনবী, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী লাহিড়ী পশুর হাটে এখন বইছে কোরবানির আমেজ। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে দেশের অন্যতম পরিচিত এই পশুর হাটের বেচাকেনা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাটজুড়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়, পশুর ডাক আর দরদামের কোলাহলে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে পুরো এলাকা। সরেজমিনে হাট ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাশাপাশি আশপাশের জেলা থেকেও খামারি ও কৃষকেরা গরু, মহিষ ও ছাগল নিয়ে হাটে আসছেন। দুপুর গড়াতেই পশুর সারিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে পুরো হাট প্রাঙ্গণ। ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের বিভিন্ন জাতের পশু নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। বিশেষ করে দেশীয় জাতের সুস্থ, মোটাতাজা ও আকর্ষণীয় গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি লক্ষ্য করা গেছে। হাটে আসা বিক্রেতারা জানান, চলতি বছর গোখাদ্য, ভুসি, খৈল ও ওষুধের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পশু লালন-পালনে ব্যয়ও বেড়েছে কয়েকগুণ। দীর্ঘ সময় ধরে যত্ন নিয়ে গরু মোটাতাজা করলেও ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে কিছুটা শঙ্কা ছিল তাদের মধ্যে। তবে ঈদ সামনে রেখে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ায় আশাবাদী হয়ে উঠেছেন তারা।অন্যদিকে ক্রেতাদের ভাষ্য, গত বছরের তুলনায় এবার পশুর দাম কিছুটা বেশি হলেও পছন্দের পশু কিনতে তারা বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখছেন। অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাটে এসে পশু নির্বাচন করছেন। ক্রেতাদের বেশিরভাগই মধ্যম দামের পশুর দিকে ঝুঁকছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। হাট ইজারাদার ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির পশুর হাটকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জালনোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপন করা হয়েছে হাট এলাকায়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আনসার সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক দল সার্বক্ষণিক টহলে রয়েছে। প্রতারণা, চুরি কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারিও। স্থানীয়দের মতে, লাহিড়ী পশুর হাট শুধু একটি কেনাবেচার স্থান নয়, বরং ঈদকে ঘিরে এটি এখন উৎসবের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে এই হাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কোরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে পশুর আমদানি ও বেচাকেনার পরিমাণ। প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর ঐতিহ্যবাহী লাহিড়ী পশুর হাট এখন যেন ঈদের আনন্দ আর গ্রামীণ জীবনের এক প্রাণবন্ত প্রতিচ্ছবি।










