দেশজুড়ে

এক বছরে সব স্থানীয় নির্বাচন, দেশে ভোটার বেড়ে ১২ কোটি ৮৩ লাখ।

ডেক্স রিপোর্টঃ
বাংলাদেশে ভোটার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জনে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়কার ভোটার তালিকার তুলনায় বর্তমানে ভোটার বেড়েছে ৬ লাখ ২৮ হাজার ৫৭ জন। বৃহস্পতিবার ইসির প্রকাশিত চূড়ান্ত হালনাগাদ তথ্য এবং ইউএনবির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী, মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন। এর আগে, ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রকাশিত ভোটার তালিকায় মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। সেই সময় পুরুষ ভোটার ছিল ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছিল ১ হাজার ২৩৪ জন। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন ভোটার যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি মৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকায় ভোটার তালিকা এখন আরও নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অন্যতম প্রধান শর্ত। এদিকে, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন ধাপে ধাপে আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। গত ৫ মে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের সব নির্বাচন সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেও তিনি উল্লেখ করেন, অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী দেশের সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে সাধারণত ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশ স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি। কারণ স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেশের তৃণমূল গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার অন্যতম বড় মাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে অনেক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মেয়াদ শেষ হলেও নির্বাচন না হওয়ায় প্রশাসনিক জটিলতা ও সেবাদানে ধীরগতি তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, সঠিক ও আধুনিক ভোটার তালিকা নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বাড়াবে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও গতিশীল করবে। একইসঙ্গে নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার বৃদ্ধিও দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং ভবিষ্যতেও নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি ও তথ্য সংশোধনের সুযোগ রাখা হবে, যাতে একটি স্বচ্ছ ও নির্ভুল নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button