

সানজিদা আক্তার স্মৃতি নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
পশ্চিমাকাশে উদিত রূপালি চাঁদ জানিয়ে দিল—দুয়ারে কড়া নাড়ছে সিয়াম সাধনার পবিত্র মাস। আগামীকাল ১৯ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার। মুমিন হৃদয়ে প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শুরু হচ্ছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস ‘মাহে রমজান। এটি কেবল পানাহার বর্জনের মাস নয়, বরং আধ্যাত্মিক রিচার্জ এবং মহান রবের সাথে পুনরায় সংযোগ স্থাপনের এক মহিমান্বিত সুযোগ।রমজান ও পবিত্র কুরআন—একে অপরের পরিপূরক। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন:রমজান মাসই হলো সেই মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী।(সূরা আল-বাকারা: ১৮৫)কুরআনের এই ঘোষণা অনুযায়ী, রমজান হলো সত্য ও মিথ্যার মাঝে দেয়াল টেনে দেওয়ার মাস।একজন মানুষ যখন দিনের আলোয় হালাল খাবার ত্যাগ করে স্রষ্টার প্রেমে মগ্ন হয়, তখন তার ভেতর এক অনন্য আধ্যাত্মিক তেজ সৃষ্টি হয়। এই তেজই মানুষকে পাপাচারের অন্ধকার থেকে বের করে আলোর পথে নিয়ে আসে।কুরআনের বিভিন্ন স্থানে মানুষকে শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বারবার সতর্ক করা হয়েছে প্রবৃত্তির দাসত্ব সম্পর্কে। রমজান আমাদের শেখায় যে, মানুষ কেবল রক্ত-মাংসের দেহ নয়, বরং একটি পবিত্র আত্মার ধারক।তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জনের মাধ্যমে মানুষের এই দৃষ্টান্তকে আরও উজ্জ্বল করার মাস এটি। রোজা আমাদের শেখায়:সংযম: জিহ্বাকে মিথ্যা ও গীবত থেকে রক্ষা করা।সহমর্মিতা: ক্ষুধার্তের কষ্ট অনুভবের মাধ্যমে বিত্তশালীদের অন্তরে আর্তমানবতার সেবা জাগিয়ে তোলা।বিবেক: অন্তরের কলুষতা দূর করে নিজেকে নতুন করে চেনা।আজ শেষ রাতে সেহরি গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে প্রথম রোজার আনুষ্ঠানিকতা। রাজধানীর মসজিদগুলোতে আজ থেকেই শুরু হচ্ছে খতম তারাবির গুঞ্জন।কুরআনের তিলাওয়াতে মুখরিত হবে প্রতিটি আঙিনা।ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, এবারের ১৯ ফেব্রুয়ারির এই শুরুটা হোক গতানুগতিকতার ঊর্ধ্বে। এটি যেন কেবল ইফতার পার্টির উৎসবে সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং প্রতিটি পরিবারে কুরআনের চর্চা এবং সমাজ থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূর করার একটি শপথ হিসেবে গণ্য হয়।আসুন, এই ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া রমজানকে আমরা আমাদের চরিত্র সংশোধনের ঢাল হিসেবে গ্রহণ করি। কুরআনের আলোয় আলোকিত হোক আমাদের প্রতিটি কদম।রহমতের এই সওগাত ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিটি ঘরে।










