

মোঃ নাজমুল হুদা,বান্দরবানঃ
বান্দরবান আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী বলেছেন, শুধু চারা রোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না।রোপণের পর গাছের নিয়মিত পরিচর্যা, যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ এবং সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা সহজ হবে। সোমবার (২০ জুলাই) সকালে বান্দরবান জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের আয়োজনে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি চারা রোপণের ঘোষণা দিয়েছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারলে পার্বত্য চট্টগ্রামেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চারা রোপণ সম্ভব। তবে শুধু গাছ লাগানো নয়, সেগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সাচিং প্রু জেরী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের বনাঞ্চলে অর্থনৈতিকভাবে মূল্যবান দেশীয় প্রজাতির গাছ যেমন চাঁপাফুল, গর্জন ও চাপালিশ একসময় প্রচুর ছিল, কিন্তু এখন তা অনেক কমে গেছে।তাই দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সুফল পাওয়া যায়—এমন দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইচ্ছা করলেই বনাঞ্চল সম্প্রসারণ করা সম্ভব নয়। তাই বিদ্যমান বন সংরক্ষণ এবং পরিকল্পিতভাবে নতুন বনাঞ্চল সৃষ্টি করতে হবে। অনুষ্ঠানে বনবিভাগ ও কৃষিবিভাগের কর্মকর্তারা বক্তারা বলেন, বর্তমানে বান্দরবানে প্রায় ৮৩ শতাংশ বন আচ্ছাদন (ফরেস্ট কভার) রয়েছে। সরকার বনাঞ্চলের পরিমাণ ২৫ শতাংশ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অংশ হিসেবে বন সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০২১ সাল থেকে দেশীয় উদ্ভিদ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ধনেশ পাখিসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে,সিভিট, চাপালিশ, গর্জনসহ উঁচু গাছ সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বনাঞ্চলে প্রতি হেক্টরে প্রাকৃতিকভাবে বছরে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি চারা জন্ম নেয়। বক্তারা আরও বলেন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি সব বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। চলতি বছরে বান্দরবানে কৃষি বিভাগ ২২ হাজার ৪০০টি চারা রোপণ করবে। “অক্সিজেন আমরা বিনামূল্যে পাই বলেই এর গুরুত্ব অনেক সময় উপলব্ধি করি না।প্রকৃতি ও মানুষ একে অপরের পরিপূরক। তাই যার যতটুকু জায়গা আছে, সেখানে অন্তত একটি করে গাছ লাগানো উচিত বলে অভিমত ব্যক্ত করেন বক্তাগণ।অনুষ্টান শুরুর আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র্যালী বের করা হয়। সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে ৫১টি প্রতিষ্টান অংশ নিচ্ছে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের আয়োজনে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলায়। জেলা প্রশাসক মোঃ সানিউল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোঃ ওহাবুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (পাল্পউড প্লান্টেশন বিভাগ) আবু ইউসুফ, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ তৌফিকুল ইসলামসহ, কৃষি বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।










