বগুড়া

বগুড়া ধুনটে যমুনার তীব্র ভাঙন: বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় শিমুলবাড়ী ও সহড়াবাড়ী নদীপাড়ের মানুষ।

নাজমুল হাসান নাজির স্টাফ রিপোর্টারঃ
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর যমুনা নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বগুড়ার ধুনট উপজেলায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শিমুলবাড়ী এবং সহড়াবাড়ী গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকায় দেখা দিয়েছে ব্যাপক ভাঙন। প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, আর মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়স্থল বসতভিটা হারানোর চরম শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের শত শত মানুষ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে যমুনা নদীর পানি কমার ও বাড়ার খেলায় ভাঙন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে শিমুলবাড়ী ও সহড়াবাড়ী ঘাটের আশেপাশের এলাকায় নদীভাঙন তীব্র হওয়ায় আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে নদী তীরের বাসিন্দাদের। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং ফসলি জমিসহ নানা স্থাপনা। অনেকেই বাধ্য হয়ে নিজেদের ঘরবাড়ি ভেঙে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতি বছর নদীভাঙনে তারা নিঃস্ব হলেও স্থায়ী তীর সংরক্ষণ বাঁধ বা টেকসই কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ভাঙন প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। আপদকালীন সময়ে কিছু বালুর বস্তা (জিও ব্যাগ) ফেলা হলেও তা যমুনার প্রবল স্রোতের কাছে টিকতে পারছে না। ​শিমুলবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা আলহাজ্ব আলী জানান, নদী যেভাবে আগাইয়া আসছে, তাতে যেকোনো সময় আমাগো ঘরবাড়ি নদীতে চইলা যাইব। রাইতে চোখে ঘুম নাই, খালি পানির শব্দ আর পাড় ভাঙার আওয়াজ। সহড়াবাড়ী এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন জানান, নদীভাঙন রোধে এখনই কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ না নিলে এই দুটি গ্রামের মানচিত্র থেকে বিশাল একটি অংশ নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে। তারা দ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। ধুনট উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ভাঙন কবলিত এলাকাগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে। ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
​তবে নদীপাড়ের মানুষের একটাই দাবি—ত্রাণ বা সাময়িক সাহায্য নয়, তারা চান যমুনার বুক থেকে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে একটি স্থায়ী ও মজবুত বেড়িবাঁধ।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button