কমিটির পরিচিতি, বৃত্তিপ্রাপ্তদের সংবর্ধনা ও শিক্ষার্থীদের প্রীতিভোজে মুখর কালিগঞ্জে দেয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।


শেখ ফারুক হোসেন বিশেষ প্রতিনিধিঃ
উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ১৭ নম্বর দেয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নবগঠিত ম্যানেজিং কমিটির পরিচিতি সভা, বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রীতিভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় এক আনন্দঘন মিলনমেলা। শিক্ষার্থীদের মুখের হাসি, অতিথিদের শুভেচ্ছা আর ভালোবাসায় পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কালীগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সেক্রেটারি ও নবগঠিত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জনাব আবু হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাজী পিউর ড্রিংকিং ওয়াটারের স্বত্বাধিকারী জনাব আব্দুর রব। অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বিদ্যালয়ের সদস্য সচিব ও প্রধান শিক্ষিকা রফিকুন্নেছা। এছাড়া বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ, কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও সকল শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত ছিল বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান। কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়ার সময় শিক্ষক, অভিভাবক ও অতিথিদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে গর্ব ও আনন্দের ছাপ। শিক্ষার্থীদের সাফল্যকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, একটি শিশুর সাফল্য শুধু তার নিজের নয়—এটি তার পরিবার, শিক্ষক এবং পুরো বিদ্যালয়ের গর্ব। সভাপতির বক্তব্যে আবু হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের মুখের হাসিই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। একটি বিদ্যালয় শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেয় না, শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখতে শেখায়। আমরা চাই এই বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিশু ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক এবং ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করুক।বিশেষ অতিথি জনাব আব্দুর রব শিক্ষার্থীদের সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে তাদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিশুদের পাশে দাঁড়ানো মানে দেশের ভবিষ্যতের পাশে দাঁড়ানো। প্রধান শিক্ষিকা রফিকুন্নেছা বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের সাফল্য আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। তাদের প্রতিভা বিকাশে বিদ্যালয় পরিবার সবসময় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবে। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বিদ্যালয়ের সকল শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজন করা হয় প্রীতিভোজের। শিক্ষক, অতিথি, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে অংশ নেন এ আয়োজনে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয় আন্তরিকতার এক সুন্দর বন্ধন। শিক্ষার্থীদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে শেষ হয় দিনব্যাপী এই আয়োজন। উপস্থিত সবার প্রত্যাশা—১৭ নম্বর দেয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শুধু পরীক্ষার ফলাফলে নয়, মানবিকতা, নৈতিকতা ও সুশিক্ষায় গড়ে তুলবে আগামী দিনের আলোকিত প্রজন্ম।










