অভিযোগ

রায়পুরে বিদ্যুৎ সংকট তীব্র লোডশেডিং: হায়দারগঞ্জ বাসি চরম দুর্ভোগে।

একরাম হোসেন রায়পুরঃ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাশাপাশি ১নং উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড এবং হায়দারগঞ্জ এলাকার বাসিন্দারা গত কয়েক দিন ধরে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দিনের পাশাপাশি রাতের বেলাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক, চাকরিজীবী, নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়রা জানান, উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়নের ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ড এবং হায়দারগঞ্জ বাজারসহ আশপাশের গ্রাম ও আবাসিক এলাকাগুলোতে দিনে-রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। কখনো কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটছে, ব্যবসা-বাণিজ্যে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে এবং প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ঘরে থাকা অসুস্থ রোগী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা।অনেক রোগী বিদ্যুৎনির্ভর চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বিদ্যুৎ চলে গেলে তাদের চরম কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত মাছ, মাংস, দুধ, ফলমূল ও শাক-সবজি নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে অনেক পরিবার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিনে প্রচণ্ড গরমের সময় কিংবা গভীর রাতে ঘুমের মধ্যে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে ঘুমানো বা বিশ্রাম নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেকেই রাত জেগে সময় কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। শিশুদের কান্নাকাটি, বয়স্কদের শারীরিক কষ্ট এবং অসুস্থ রোগীদের দুর্ভোগ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ গ্রাহকরা নিজেদের ভীষণ অসহায় মনে করছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুতের অভিযোগ কেন্দ্রে যোগাযোগ করলে অধিকাংশ সময় “লাইনে কাজ চলছে” বলে জানানো হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর দাবি, অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান মেরামত কার্যক্রম দেখা যায় না। এছাড়া জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করতে গিয়ে অনেক সময় মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়, ফলে গ্রাহকরা সমস্যার প্রকৃত কারণ ও সমাধানের সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে কোনো তথ্য পান না। পল্লী বিদ্যুতের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিদ্যুৎ লাইনের পাশের বড় গাছপালা, ঝড়-বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। গাছের ডালপালা লাইনের ওপর পড়ে যাওয়ায় অনেক সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হচ্ছে। এজন্য ঝুঁকিপূর্ণ গাছপালা ছাঁটাই ও অপসারণ কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন। এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সচেতন নাগরিক ও এলাকাবাসী দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান, বিদ্যুৎ লাইনের আধুনিকায়ন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং অভিযোগ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, হায়দারগঞ্জসহ উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সমস্যায় ভুগছেন। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার, উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে এবং জনগণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাবে।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button