অভিযোগ

হায়দারগঞ্জে তিন বখাটের ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদে স্বামীকে মারধর, থানায় অভিযোগ।

একরাম হোসেন রায়পুরঃ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার হায়দারগঞ্জ এলাকায় এক গৃহবধূকে রাস্তায় উত্ত্যক্ত (ইভটিজিং) করার প্রতিবাদ করায় তার স্বামীকে মারধর, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে প্রধান আসামি করে রায়পুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শামীম আহমেদ (৩০)। অভিযোগ পাওয়ার পর হায়দারগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের আটক করে রায়পুর থানায় হস্তান্তর করেছে বলে জানা গেছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুলাই ২০২৬ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে শামীম আহমেদ তার স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে হায়দারগঞ্জ কলেজের পূর্ব পাশে পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা কয়েকজন তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা প্রথমে শামীম আহমেদের স্ত্রীকে লক্ষ্য করে অশ্লীল মন্তব্য, কটূক্তি ও অশোভন আচরণ করতে থাকে।এতে শামীম আহমেদ প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে রক্ষা করতে গেলে তার স্ত্রীকেও ধাক্কাধাক্কি ও হেনস্তার শিকার হতে হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার সময় অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা পালানোর চেষ্টা করে। খবর পেয়ে হায়দারগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই বেলায়েত হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান পরিচালনা করেন। পরে অভিযুক্তদের আটক করে প্রথমে হায়দারগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রায়পুর থানায় হস্তান্তর করা হয়। আহত শামীম আহমেদকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে তিনি রায়পুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। অভিযোগে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—১. মনির হোসেন(১৭)_২._৩.এছাড়াও আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা সহযোগী আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মামলাটি আদালতে বিচারাধীন হলে আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবেন।সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে চাপ ও অর্থের প্রলোভনের অভিযোগ এদিকে, ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশ না করার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তদের পক্ষের কয়েকজন ব্যক্তি সংবাদটি প্রকাশে বাধা দিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় তারা সাম্প্রতিক চ্যানেলের লক্ষ্মীপুর জেলা স্টাফ রিপোর্টারের সঙ্গে অশোভন ও আপত্তিকর আচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, সংবাদটি প্রকাশ না করার শর্তে মোটা অঙ্কের অর্থের প্রলোভন দেখানোরও অভিযোগ উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক কোনো ধরনের ভয়ভীতি, প্রভাব বা আর্থিক প্রলোভনের কাছে নতি স্বীকার না করে পেশাগত দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন এবং ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করে সংবাদ প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।অভিযোগকারীদের দাবি, এ ধরনের চাপ ও প্রলোভন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ব্যাহত করার অপচেষ্টা এবং এরও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button